জাতীয়জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-নথি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-নথি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করতে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী ডি-নথি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণরূপে কাগজবিহীন ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে সম্প্রতি একটি দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণটি ডিজিটাল নথি বা ডি-নথি ব্যবহারের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্মে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ডি-নথি বিষয়ক এমন একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
গাজীপুরে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের আয়োজনে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও আধুনিক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের মোট পঁচিশ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ শেষে তাদের নিজ নিজ দপ্তরে ডি-নথি কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালু ও বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে একটি আধুনিক, দ্রুত এবং সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে ই-নথি ও ডি-নথি ব্যবস্থার পরিচিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের লগইন ও প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়, যা তাদের দৈনন্দিন কাজে সরাসরি সহায়তা করবে। এছাড়াও ডাক আপলোড করা এবং এর ট্র্যাকিং পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে অনুশীলন করানো হয়।
প্রশিক্ষণার্থীরা অনলাইনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নথি উপস্থাপনের সঠিক কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। নোট লেখার পদ্ধতি, খসড়া পত্র তৈরি এবং ডিজিটাল নথি নম্বর ব্যবহারের নিয়মাবলীও তাদের শেখানো হয়। পাশাপাশি, শাখা কোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় প্রকারের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এই প্রশিক্ষণে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একই বিভাগের উপ-পরিচালক দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাসও বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের অভিজ্ঞ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পুরো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের সমাপনী সেশনে ডিজিটাল নথি নম্বর এবং নথির ধরন কোড বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই সেশনে অংশগ্রহণকারীদের দলগত উপস্থাপনাও (গ্রুপ প্রেজেন্টেশন) অনুষ্ঠিত হয়, যা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রতিফলন ঘটায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান পুরো প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশিক্ষণটি সমাপনী মূল্যায়নের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়, যা তাদের নতুন অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি বহন করে। এই উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশিত।
মতামত (0)