প্রযুক্তি

জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী, টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান

জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী, টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান
জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী, টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান
অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন। টিম কুক এখন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন।

অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি এই পদে আসীন হন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হলেন টার্নাস।

অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের বাইরে খুব কম মানুষই জন টার্নাসকে চেনেন। টিম কুক অবশ্য অ্যাপল ছাড়ছেন না; তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত এপ্রিলে টার্নাসের নাম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো যখন অ্যাপলকে নতুন আইফোনের উন্মোচন সামলাতে হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী সপ্তাহেই নতুন আইফোন উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে।

অ্যাপল শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিল্ট-ইন ভার্চুয়াল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র নতুন ও উন্নত ভার্সন চালু করার পরিকল্পনা করছে। এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে থাকছে গুগলের জেমিনি। টিম কুক তার শেষ কর্মদিবসে কর্মীদের উদ্দেশে লিখেছেন, জন টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছেন।

কুক আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবী বদলে দিতে পারে এমন পণ্য তৈরির জন্য কী প্রয়োজন, তা টার্নাসের মতো খুব কম মানুষই বোঝেন। টার্নাসের বয়স বর্তমানে ৫১ বছর। তার জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়, অর্থাৎ ২৫ বছর, অ্যাপলের সঙ্গেই কেটেছে।

২০০১ সালে তিনি অ্যাপলের পণ্য নকশা দলে যোগ দেন। কলেজ শেষ করার পর এটিই ছিল তার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরিটি ছিল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যন্ত্র তৈরি করা প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে।

২০১৩ সালে টার্নাস অ্যাপলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। এরপর ২০২১ সালে তাকে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। টিম কুকের চেয়ে তিনি ১৫ বছরের ছোট।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আগে আলোচনায় এসেছিল, তাদের মধ্যে টার্নাসই ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম বয়সী। চলতি শতকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী ছিলেন মাত্র দুজন— স্টিভ জবস ও টিম কুক। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এমন কাউকেই অ্যাপল বেছে নিতে চেয়েছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল।

টার্নাস এত দিন সরাসরি কুকের অধীনে কাজ করেছেন এবং তাকে নিজের পরামর্শদাতা হিসেবেও দেখেন। অ্যাপলের পুরো হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। আইফোন ও ম্যাকবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর বিষয়টি বিবেচনা করলে তার আগের দায়িত্বের গুরুত্ব সহজেই বোঝা যায়।

অ্যাপলে টার্নাসের শুরুর দিকের একটি কাজ ছিল অ্যাপল সিনেমা ডিসপ্লের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা। ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রকৌশল বিভাগের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সেই সময়ের একটি ঘটনা বলেছিলেন। অ্যাপলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়ে তিনি রাতভর স্ক্রুর মাথায় থাকা খাঁজ গুনছিলেন।

সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি যন্ত্রাংশে ৩৫টি খাঁজ রয়েছে, অথচ থাকার কথা ছিল ২৫টি। সেই মুহূর্তে নিজেকেই তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আসলে কী করছেন এবং এটি স্বাভাবিক কি না। ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি তার মনোযোগই অ্যাপলের কাজের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।

টার্নাস তার সমাবর্তন বক্তব্যে বলেন, ঘরে থাকা অন্য সবার মতো নিজেকেও বুদ্ধিমান ভাবতে হবে, তবে কখনোই মনে করা যাবে না যে অন্যদের চেয়ে বেশি জানা আছে। তার মতে, এই মানসিকতা আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশ্ন করার মতো বিনয়ও তৈরি করে। অ্যাপলের ভেতরে পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে টার্নাসের দায়িত্বও বেড়েছে।

অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রোর মতো পণ্যের বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অ্যাপলের ইন্টেল চিপ থেকে নিজেদের তৈরি অ্যাপল সিলিকন চিপে যাওয়ার বড় পরিবর্তনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের তুলনামূলক কম দামের ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও তৈরির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।

এই ল্যাপটপে খরচ কমাতে কিছু হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আইফোনে ব্যবহৃত চিপও ব্যবহার করা হয়েছে। ম্যাকবুক নিও নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে টার্নাস বলেন, অ্যাপল কখনো নিম্নমানের পণ্য বাজারে আনতে চায় না। নিও তৈরির জন্য তাই নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল সিলিকন এবং ম্যাক, আইফোন ও আইপ্যাড তৈরির বহু বছরের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...