রাজনীতিজনস্বার্থবিরোধী কাজে বিরোধিতা, ভালো কাজে সহযোগিতা করবে জামায়াত: আমির
জনস্বার্থবিরোধী কাজে বিরোধিতা, ভালো কাজে সহযোগিতা করবে জামায়াত: আমির
জামায়াতে ইসলামী সরকারের জনস্বার্থমূলক কাজে সহযোগিতা করবে এবং জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের অহিংস ও গঠনমূলক বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে। দলের আমির শফিকুর রহমান টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ অবস্থান তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আজ বুধবার দেশের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই বৈঠকে তিনি সরকারের জনস্বার্থমূলক যেকোনো ভালো কাজে তার দল সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ সরকারি বাসভবনে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বাসভবনের ফটকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, দলের প্রতিবাদ বা বিরোধিতা হবে অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সমাজে বিরাজমান জনদুর্ভোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ ও সংসদের বাইরে জামায়াতের প্রকাশ্য ও আন্তরিক ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের বিষয়গুলো গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের নজরে আনেন। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন ছাড়াও জনমত তৈরি, জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টি এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির উপস্থিত নির্বাহীদেরকে দলের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা ভালো পরামর্শ থাকলে খোলামেলাভাবে জানাতে অনুরোধ করেন। তার বক্তব্যের পর সাংবাদিকেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের নির্বাহীরা তাদের পেশায় বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানান।
সাংবাদিকেরা উল্লেখ করেন যে, সংবাদপত্রে যেসব সুবিধা আছে, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সেসবের অভাব রয়েছে। এখানে বেতনকাঠামো, ওয়েজ বোর্ড এবং কাঠামোগত কোনো অবস্থান নেই। একইসাথে তারা তাদের পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেন যে, এ বিষয়ে একটি সুচিন্তিত প্রস্তাব নিয়ে এলে তারা ভূমিকা রাখবেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে অনেকেই বলেছেন যে, ভিন্নমত ছাড়াই গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে এবং জামায়াতের উচিত সরকারকে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলা। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের নির্বাহীরা বর্তমান সংসদে জামায়াতের ভূমিকাকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। একজন নির্বাহী রাজপথে আন্দোলন না করলেও চলে এমন মতও প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তারা সব ভালো কাজে সহযোগিতা করবেন এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধিতা করবেন। তবে সেই বিরোধিতা বা প্রতিবাদ অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল হবে বলে তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বাইরে আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গণতন্ত্রের একটি সৌন্দর্য।
ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় দলের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট জামায়াত আমির সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে কয়েকজন গণমাধ্যম নির্বাহীও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একজন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেশের গণমাধ্যম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করছে। তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
তিনি টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজ বোর্ড বা বেতনকাঠামো না থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, টেলিভিশনে ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ইকোসিস্টেম ঠিক নয়, টেলিভিশন শিল্প হিসেবে দাঁড়ায়নি। এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তিনি জামায়াত আমিরের প্রতি অনুরোধ জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যেন তারা সংসদ ও সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের পক্ষে ভূমিকা রাখেন।
মতামত (0)