সারাদেশ

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ খায়রুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ খায়রুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ খায়রুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক ড. মো. খায়রুল ইসলামের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তাঁর জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে অবদান স্মরণ করা হয়।

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক ড. মো. খায়রুল ইসলামের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক টাওয়ারে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কাজ করেছেন।

শোকসভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ (বিএইচডব্লিউ) এবং ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। এতে খায়রুল ইসলামের জীবন, কাজ এবং জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। খায়রুল ইসলাম গত ২১ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী শোকসভায় জানান, সংগঠনের দশম দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদনটি খায়রুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, "এমন প্রাণবন্ত একজন মানুষ এভাবে চলে গেছেন, এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছিল।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে খায়রুল ইসলামের সবসময় আগ্রহ ছিল।

রওনক জাহান জানান, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের পক্ষ থেকে খায়রুল ইসলামের নামে আরও কিছু করার চেষ্টা করা হবে। ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন অধ্যাপক লরা জিন রাইখেনবাখ বলেন, খায়রুল ইসলাম জনস্বাস্থ্য নেতৃত্বে এক উজ্জ্বল উদাহরণ রেখে গেছেন। এটি পরবর্তী প্রজন্মের জনস্বাস্থ্যবিদদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন খায়রুল ইসলামকে একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তিনি জনস্বাস্থ্যকর্মী হওয়ার পাশাপাশি একজন সৃজনশীল মানুষও ছিলেন।"

খায়রুল ইসলাম বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের (বিএইচডব্লিউ) ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পপুলেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে তিনি অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শোকসভাটি সঞ্চালনা করেন ইয়াসমিন আহমেদ। খায়রুল ইসলাম তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন নিবন্ধ লিখেছেন এবং বই ও প্রকাশনায় অবদান রেখেছেন। জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিষয়ে জনপরিসরের আলোচনা ও জ্ঞানচর্চায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...