অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও হামলা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ বুধবার সকালে ৯৯ ডলার ২২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কায় এই মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৯ ডলার ২২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলার ১৩ সেন্টে পৌঁছেছে।

গত জুলাই মাসের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাল। গত মাসের শুরুর দিকের তুলনায় ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা কমে আসা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়ার এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেয়। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে, যা চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা।

একই দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি কয়েকটি জাহাজেও আক্রমণ করে। এসব সাম্প্রতিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেছেন, ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমার কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়ার গতি আরও জোরালো হচ্ছে।

সচদেভা আরও উল্লেখ করেন, ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছানোকে শুধু একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে এশিয়ায়। এ অঞ্চলের অনেক অর্থনীতি আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ওসিবিসির বিশ্লেষকরা এক নোটে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের ঘটনায় তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে কিছু তেল রপ্তানি করছে। তবে দেশটিতে ধারাবাহিক হামলা হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...