জাতীয়মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (২) শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার আলোচনা ও মূল্যায়ন করছে। দেশের স্বার্থ ও সম্ভাব্য সুফল-ক্ষতি যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (২) শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের জন্য এর সম্ভাব্য সুফল-ক্ষতি যাচাই করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জোটে দেশগুলোর যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক, কোয়াড ও ব্রিকসসহ বিভিন্ন জোটের উদাহরণ তুলে ধরেন। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় নতুন নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধারণা থেকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এই উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। এর মূল ধারণা হলো, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে জোটের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়ও এতে গুরুত্ব পাবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ এ উদ্যোগে যুক্ত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য সব ধরনের সুবিধা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে চুক্তিতে যুক্ত হলে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, সেটিই প্রথমে মূল্যায়ন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক সুবিধা ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও চুক্তিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হবে। শামা ওবায়েদ বলেন, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্প্রতি দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গেও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত।
তিনি জানান, এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চুক্তিতে যোগদানের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই উদ্যোগ থেকে বাস্তবে কতটা লাভবান হতে পারবে, তার ওপরই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূল্যায়নে যদি দেখা যায় চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের লাভ বেশি হবে এবং দেশের মানুষের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, তাহলে সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
মতামত (0)