অর্থনীতি

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ
মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ
মোংলা বন্দরে পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভারসহ চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। এগুলোর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দরে বিলাসবহুল চারটি গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আমদানিকারক পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে এসব গাড়ি ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার মতো দামি গাড়িগুলো কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে আনা হয়েছিল। প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমদানি করা একটি চালান থেকে এই শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে।

আমদানিকারক চালানে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল এবং স্টিয়ারিং হুইলের মতো গাড়ির যন্ত্রাংশ আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব গাড়ির ব্যবহার করা যন্ত্রাংশের পরিবর্তে সম্পূর্ণ বিলাসবহুল গাড়ি আনা হয়েছে। গাড়িগুলো কয়েকটি অংশে ভাগ করে (সিকেডি) পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে দেখা যায়, সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র তিন-চারটি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন বা সিকেডি অবস্থায় আমদানি করা হয়েছে। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা দেখানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জব্দ করা চারটি গাড়ির মডেল হলো রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এসব গাড়ির সম্ভাব্য মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা হতে পারে। গাড়িগুলো আমদানি করেছে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্ত অনুসারে, যুক্তরাজ্যের তৈরি রেঞ্জ রোভার ভোগ গাড়িটি ২০১৭ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জাপানে তৈরি লেক্সাস এলএক্স৫৭০ গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এর মডেল বছর ২০১৬।

জার্মানির তৈরি বিএমডব্লিউ ৬৫আই মডেলের গাড়ি ২০১০ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর মূল্য ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা। টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট গাড়িটি তৈরি হয়েছে জাপানে। এই গাড়ির দাম ৩০-৪০ লাখ টাকা।

গত জুলাই মাসে গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেয়ে চারটি গাড়ির চালান স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআইয়ের সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব গাড়ির শুল্কায়নযোগ্য দাম কত, তা নির্ধারণ করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপর আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির অঙ্ক যথাযথ শুল্কায়ন শেষে নির্ধারিত হবে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের চূড়ান্ত তদন্ত শেষে মোংলা কাস্টম হাউসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। গাড়ির ওপর আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্কসহ নানা ধরনের শুল্ক-কর বসে। দামি ও বেশি সিসির ইঞ্জিনক্ষমতাবিশিষ্ট গাড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক বেশি বসে। সিসিভেদে গাড়ির ওপর ৩০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। এই শুল্ক ফাঁকি দিতেই আমদানিকারকেরা নানা কৌশল ব্যবহার করে থাকেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...