জাতীয়

নতুন পে-স্কেল: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা

নতুন পে-স্কেল: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা
নতুন পে-স্কেল: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো আগামী ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন হতে পারে এবং ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির হার এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো আগামী ৩১ আগস্ট, সোমবার, মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন ও ভাতা কত শতাংশ বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জারি হতে পারে। এরই মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী ৩১ আগস্ট, সোমবার, মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন অনুমোদন হলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

যদিও মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এর আগে, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত গ্রেডভিত্তিক বেতনকে চূড়ান্ত না ধরে সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের জন্য ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)। ২য় গ্রেডের জন্য ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা; ৩য় গ্রেডের জন্য ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা; ৪র্থ গ্রেডের জন্য ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা; ৫ম গ্রেডের জন্য ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা; ৬ষ্ঠ গ্রেডের জন্য ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা; ৭ম গ্রেডের জন্য ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা; ৮ম গ্রেডের জন্য ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা; ৯ম গ্রেডের জন্য ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা; ১০ম গ্রেডের জন্য ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা; ১১তম গ্রেডের জন্য ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা; ১২তম গ্রেডের জন্য ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা; ১৩তম গ্রেডের জন্য ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা; ১৪তম গ্রেডের জন্য ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা; ১৫তম গ্রেডের জন্য ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা; ১৬তম গ্রেডের জন্য ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা; ১৭তম গ্রেডের জন্য ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা; ১৮তম গ্রেডের জন্য ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা; ১৯তম গ্রেডের জন্য ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা; এবং ২০তম গ্রেডের জন্য ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যা আগের কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত হওয়ায় সরকারি গেজেট প্রকাশের আগে এগুলোকে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ নামে একটি ই-বুক প্রকাশ করেছে। সেখানে ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ই-বুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...