বিনোদনঅভিনেত্রী সিডনি সুইনির জীবন ও ক্যারিয়ারের উত্থান
অভিনেত্রী সিডনি সুইনির জীবন ও ক্যারিয়ারের উত্থান
ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় ও বিতর্ক সত্ত্বেও অভিনেত্রী সিডনি সুইনি 'ইউফোরিয়া' ও 'দ্য হাউসমেইড' এর মতো প্রকল্পে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আজ তার জন্মদিন।
অভিনেত্রী সিডনি সুইনি প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। কখনো পর্দার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে, কখনো আবার জিনসের বিজ্ঞাপনের কারণে তিনি সমালোচিত হন। তবে তার জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্য; গত এক বছরে 'দ্য হাউসমেইড' এবং 'ইউফোরিয়া'-এর মতো দুটি আলোচিত প্রকল্পে কাজ করে তিনি নিজের পরিচিতি আরও বাড়িয়েছেন।
আজ ১২ সেপ্টেম্বর সিডনি সুইনির জন্মদিন। ১৯৯৭ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনে তার জন্ম হয়। তার শৈশব কেটেছে ওয়াশিংটন-আইডাহো সীমান্তের গ্রামীণ পরিবেশে।
তার মা একজন ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী ছিলেন এবং বাবা হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতেন। ছোটবেলায় সিডনি ফুটবল, সফটবল, স্কি, ওয়েকবোর্ডিংয়ের পাশাপাশি তায়কোয়ান্দো, জুজিৎসু, গ্র্যাপলিং ও কিকবক্সিংও শিখেছেন। তিনি গণিত ও রোবোটিকসের মতো বিষয়েও মেধাবী ছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সামনে তিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতেন এবং নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করতেন। তার বাবা-মা শুরুতে অভিনয়কে একটি পেশা হিসেবে দেখতেন না।
তাদের এলাকায় একটি ছোট বাজেটের সিনেমার শুটিং শুরু হলে সিডনি অডিশন দেওয়ার অনুমতি চান। তখন তার বয়স ছিল ১০ থেকে ১২ বছর। তিনি মা-বাবার সামনে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন, যেখানে পাঁচ বছরের একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মতো করে অডিশন, বিজ্ঞাপন, ছোট চরিত্রে কাজ, এজেন্ট যোগাযোগ এবং হলিউডে পৌঁছানোর কৌশল ব্যাখ্যা করেন।
এই পরিকল্পনা দেখে বাবা-মা রাজি হন এবং সিডনি সেই ছোট সিনেমায় সুযোগ পান। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি পরিবার নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন। তবে স্বপ্নের শহরে পৌঁছানো মানেই সাফল্য ছিল না, বরং শুরু হয় কঠিন সংগ্রাম।
একের পর এক অডিশন, প্রত্যাখ্যান এবং অনিশ্চয়তা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি 'প্রিটি লিটল লায়ার্স', 'গ্রেস অ্যানাটমি', 'ক্রিমিনাল মাইন্ডস', 'দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল'-এর মতো বিভিন্ন সিরিজে ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন। সিডনি নিজেই জানিয়েছেন, তার পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবে পূরণ হতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছিল।
এই সময়ে সিডনির পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা এবং অভিনয়ের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় এবং পরিবার দেউলিয়াত্বের আবেদনও করে। সিডনি পরে বলেছেন, সেই সময়টা পরিবারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না, তবে এই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
ধীরে ধীরে তার বড় সুযোগ আসতে শুরু করে। ২০১৮ সালে 'এভরিথিং সাক্স!' এবং 'শার্প অবজেক্টস'-এ অভিনয় করে তিনি দর্শকের নজরে আসেন। এরপর 'দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল'-এ কাজ করে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।
তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৯ সালে এইচবিওর 'ইউফোরিয়া' সিরিজের মাধ্যমে। এই সিরিজটিতে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করে সিডনি রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। চরিত্রটি ছিল আবেগপ্রবণ, ভঙ্গুর এবং প্রেম ও আত্মপরিচয়ের সংকটে থাকা এক তরুণীর।
সিডনি চরিত্রটির জটিলতা এমনভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন যে তিনি দ্রুত প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। একই প্ল্যাটফর্মের আরেকটি সিরিজ 'দ্য হোয়াইট লোটাস' তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে সিরিজে অভিনীত চরিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্য নিয়ে তিনি বরাবরই সমালোচনা ও বিদ্রূপের শিকার হয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে সিডনি জানান, বিনোদন-দুনিয়া নিয়ে এখন তার ধারণা অনেক পরিষ্কার। তিনি বলেন, "আমি নিজের শক্তির জায়গা খুঁজে পেয়েছি। প্রতিদিন যা করি, তা থেকে শেখার চেষ্টা করি, মাথা খাটাই। এভাবে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।"
মতামত (0)