জাতীয়

অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন শাহজাহানপুরে গ্রেফতার

অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন শাহজাহানপুরে গ্রেফতার
অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন শাহজাহানপুরে গ্রেফতার
রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মো: অহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। তার কাছ থেকে জুয়া পরিচালনার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের এক অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‍্যাব-৩ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে মো: অহিদুর রহমান (৪৩) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বুধবার (২৬ আগস্ট) এসব তথ্য জানান।

শাহজাহানপুর থানাধীন ২০ আউটার সার্কুলার রোডের রাজারবাগ এলাকায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, বিকাশ অ্যাপে ৮১ হাজার ২১৪ টাকা এবং নগদ অ্যাপে ৫০ হাজার ৪১ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, দুটি ব্যক্তিগত সিমকার্ড, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। র‍্যাবের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জুয়ার বেটিং সাইট পরিচালনা ও প্রচার করে আসছিলেন। র‍্যাবের দাবি অনুযায়ী, তিনি এই জুয়া ও বেটিং চক্রের একজন সুপার অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।

তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের চ্যাট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে জুয়া ও বেটিং সাইটের প্রচার এবং অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। র‍্যাব জানায়, অহিদুর রহমানের ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইলের ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি পর্যালোচনা করে একাধিক অনলাইন বেটিং সাইটের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাইটের কোনোটিতে তিনি অ্যাডমিন এবং কোনোটিতে অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি অনলাইন বেটিংয়ের জন্য গ্রাহক সংগ্রহে দুটি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলেও তথ্য মিলেছে। র‍্যাব জানায়, চক্রের সদস্যরা মোবাইল ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিয়োগকৃত অ্যাজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিল। তারা গ্রাহকদের অনলাইনে বেটিং খেলার জন্য বেটিং সাইটের নিজস্ব কারেন্সি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত।

জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর জানিয়েছেন, এই চক্রের সাথে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন সদস্য জড়িত। র‍্যাবের দাবি, চক্রের সদস্যরা জুয়া পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও গাড়িসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। গ্রেফতার অহিদুর ও তার সহযোগীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করতেন।

তারা ভুয়া পরিচয়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খুলে বেটিং সাইট পরিচালনা করতেন। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন ধারায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (1)

হাকিম২৬ আগস্ট, ২০২৬
এদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়া উচিত।