প্রযুক্তি

অননুমোদিত ঋণ অ্যাপে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হারানোর ঝুঁকি, বিএফআইইউর সতর্কতা

অননুমোদিত ঋণ অ্যাপে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হারানোর ঝুঁকি, বিএফআইইউর সতর্কতা
অননুমোদিত ঋণ অ্যাপে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হারানোর ঝুঁকি, বিএফআইইউর সতর্কতা
অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজ ঋণের প্রলোভন থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হারানোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ। সংস্থাটি ২৯টি অবৈধ অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সতর্ক করেছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ঋণের আবেদন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য খোয়া যেতে পারে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

বিএফআইইউ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় সাধারণ মানুষকে এসব অননুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং নানা অজুহাতে বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে।

অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ঋণের আবেদন করার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দিতে বলা হয়েছে। ঋণ দেওয়ার আগে কেউ অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি চাইলে সেটিকে প্রতারণার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে সতর্ক থাকতে বলেছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর নজরে আসা ২৯টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে রয়েছে সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যাবে। এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে তাও কর্তৃপক্ষকে জানানো যাবে। প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড, মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট, ব্যবহৃত ফোন নম্বর এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সহজ ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...