প্রবাসী

প্রবাসীদের উদ্যোগে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার

প্রবাসীদের উদ্যোগে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার
প্রবাসীদের উদ্যোগে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার
বাংলাদেশ ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের যৌথ উদ্যোগে চার বছর ধরে ট্রেড ও রেমিট্যান্স ফেয়ার আয়োজিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিইউএসএসিসিআই) চার বছর ধরে মূলধারার গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের (জিএনওয়াইসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে বৃহৎ পরিসরে ট্রেড ফেয়ার ও রেমিট্যান্স ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এই যৌথ উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের আস্থা অর্জন করে একটি সম্মানিত অংশীদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বিইউএসএসিসিআই।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত ও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দুই বছর মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক, ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাজীবী ও বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিজ নিজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁরা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল।

তবে সরকারি পর্যায়ে প্রত্যাশিত উৎসাহ ও সমন্বয় না থাকায় তাঁদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত এবং অনেক সরকারি সংস্থা প্রবাসীদের উদ্যোগ ও সক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উন্নত দেশগুলোতে বসবাসকারী দ্বৈত নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই নিজ নিজ পেশা ও কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কার্যকর ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।

সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে এসে বলেছিলেন, বাংলাদেশে সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বাংলাদেশকে টিকা দেবে না। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা শুরু করে। এই উদ্যোগের পেছনে প্রভাবশালী বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ডা. মাসুদের সঙ্গে আলোচনার পর নেভাদার বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ ছিল। তিনি হোয়াইট হাউসের কোভিড-সংক্রান্ত আলোচনায় একজন আমেরিকান চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

অনলাইন সভাগুলোতে নিয়মিত পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝাতে সক্ষম হন যে বাংলাদেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুর হার ভয়াবহ হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেয়।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশকেও পর্যাপ্ত টিকা দিতে পারেনি। বাংলাদেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ যখন টিকা পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন, তখন সম্মানিত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনুরোধ ও প্রচেষ্টায় সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় সম্মানিত ও প্রভাবশালী বহু প্রবাসী বাংলাদেশি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে।

২০২৫ সালের নিউইয়র্ক রেমিট্যান্স ফেয়ার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান কেলি লোফলার। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য সৃষ্ট নতুন ব্যবসায়িক সুযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

দিনব্যাপী আয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার; যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলার কৌশল; বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণ; বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা; বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা; এবং বাংলাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য, ইতালি, পোল্যান্ড ও কানাডার বাংলাদেশি এনআরবি বিজনেস চেম্বারের নেতারা এই আয়োজনে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোরিয়ান, লাতিন আমেরিকান, ইতালিয়ান ও নেপালিজ-আমেরিকান চেম্বারের নেতারা এই আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

লাতিন আমেরিকান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ প্রদানের আগ্রহ জানান। অনেক ফ্যাশন গ্রুপের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার গ্লোরিয়া স্টার কিন বাংলাদেশের ফ্যাশন ও তৈরি পোশাককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য তাঁর সঙ্গে আসা ডিজাইনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

গত চার বছরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...