জাতীয়

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বঙ্গভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রথম দরবারে এই ঘোষণা দেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার মনে কারও প্রতি কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থই হবে তার একমাত্র লক্ষ্য।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে দল, সংসদ এবং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এসেছেন। এর ফলে তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ এবং সেভাবেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

তিনি দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। রাষ্ট্রপতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে। তিনি সবাইকে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এটি নিশ্চিত করবে যেন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পাশাপাশি তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, সবাই একটি পরিবারের সদস্য। একই জায়গায় কাজ করার সুবাদে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...