অর্থনীতিরেমিট্যান্স বিনিয়োগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির গুরুত্ব
রেমিট্যান্স বিনিয়োগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির গুরুত্ব
আইওএম বাংলাদেশ-এর চীফ অব মিশন বলেছেন, রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে একটি ছায়া সংসদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশ-এর চীফ অব মিশন ড. লরা টম্ বনদ এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল শুধু একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবার, সমাজ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ড. লরা টম্ বনদ উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্সের একটি অংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (এসএমই) বিনিয়োগ করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এই বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পথ উন্মুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। রেমিট্যান্স শুধু পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায় না। সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এসএমই খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে তিনি জানান।
ড. লরা টম্ বনদ বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও মানসম্মত করা আইওএম-এর লক্ষ্য। অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইওএম সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও আইওএম বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে সহযোগিতা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতিতে অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তির প্রায় ২৫ শতাংশের কর্মসংস্থান অভিবাসনের মাধ্যমে হয়। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ১০ শতাংশ বেড়ে যেত। রেমিট্যান্সের কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবার দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসছে বলেও তিনি জানান।
তিনি রেমিট্যান্স শুধু ভোগে ব্যয় না করে অভিবাসী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে এসএমই খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ অভিবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইওএম বাংলাদেশ-এর অভিবাসন নীতি ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. ঈশিতা শ্রুতি।
অনুষ্ঠানে ‘এসএমই খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ অভিবাসী পরিবারের সুরক্ষায় সর্বোত্তম কৌশল’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজয়ী হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী ও সাংবাদিক আহমেদ রেজা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের বিতার্কিকদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত (0)