জাতীয়

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যের হত্যায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যের হত্যায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যের হত্যায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় এক শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় এক শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে এই দাবি ওঠে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ১৯ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ দাস ও ২৩ বছর বয়সী মুগ্ধ দাস নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ভক্ত সংঘ সোসাইটি বাংলাদেশ, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন, বাংলাদেশ দেশোয়ালি সমাজ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট এবং বাংলাদেশ লোকনাথ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। এসব সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে।

সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল দেশের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। এছাড়া প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হয়।

রংপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করার জন্য জুডিশিয়াল তদন্তের দাবিও উত্থাপন করা হয়। তিনি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার প্রতি জোর দেন। উগ্রবাদী ও মৌলবাদী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করার কথাও তার দাবির মধ্যে ছিল।

সুমন কুমার রায় আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সমাবেশে দেশোয়ালি সমাজের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রসাদ কানু বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ নিজ ঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না। একদিকে লোডশেডিং, গ্যাস ও পানির সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

অন্যদিকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একের পর এক অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

এছাড়াও সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল। বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রাণতোষ তালুকদারও সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন। সন্তোষ চন্দ্র দাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...