জাতীয়সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকুর ছেলে এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে। পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক এই মেয়র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ধারায় সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা আসিফ শামসের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করবেন।
দুদকের অনুমোদিত মামলার অভিযোগে বলা হয়, শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছিল। সেই সময় তাঁর ছেলে আসিফ শামসের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেয় দুদক।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. আল–আমিন আসিফ শামসের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়।
দুদকের অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কনস্টেবল–৬৪৮ জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে আসিফ শামসের স্থায়ী ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরম পাঠানো হয়েছিল। গত ১৬ জানুয়ারি দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে তাঁর কাছে এই ফরম জারি করা হয়।
আইন অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য আসিফ শামসকে ২১ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই সময়সীমা শেষ হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
আসিফ শামস সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়াও শামসুল হক টুকুর অপর ছেলে এস এম নাসিফ শামস এবং তাঁর স্ত্রী মুমতাহিনা মোস্তফার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়টি বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে।
শামসুল হক টুকুকে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।
মতামত (0)