বিনোদনসালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর, পুলিশ ও মেঘনা আলমের ভিন্ন বক্তব্য
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর, পুলিশ ও মেঘনা আলমের ভিন্ন বক্তব্য
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ সালমানের, তবে পুলিশ বলছে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। মডেল মেঘনা আলম ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এই হামলার ঘটনা ঘটে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্টুডিওর সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং কক্ষের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ এই হামলা চালানো হয়।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, ইসিবি চত্বরে একটি অফিসে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণ চাঁদা দাবি নয়, বরং জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ।
এদিকে, মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনাটি তার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয় উল্লেখ করে তিনি এর পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। আজ (রবিবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মেঘনা আলম সালমানের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় সালমান তার কষ্টে কষ্টিত হয়ে বাসায় এসে বাসন ধুয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। তিনি আরও জানান, সালমানকে অন্য অনেকের মতো বিচার না করে তার ছোট ছোট উন্নতিরও প্রশংসা করে এসেছেন।
তবে পরবর্তী সময়ে সালমানের কিছু কর্মকাণ্ডে তিনি হতাশ হন এবং একপর্যায়ে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু তালিকা থেকে সরিয়ে দেন। মেঘনা আলম তার অতীতের একটি ঘটনাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউনূস সরকারের সময়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার ফোন ও ম্যাকবুকের পাসওয়ার্ড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
সে সময় এক তদন্ত কর্মকর্তা সালমানের সঙ্গে তার বার্তা দেখে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এই সালমান মুক্তাদির দুনিয়ার সব গণ্ডগোলে কীভাবে ঢুকে পড়ে?’ এরপর সালমানের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে মেঘনা আলম প্রশ্ন তোলেন। হামলাকারীদের নাম-চেহারা না জানা এবং নিজের কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি না করার কথা সালমান নিজেই বলার পরও তিনি কীভাবে ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করছেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন।
মেঘনা আলমের ভাষায়, বিষয়টি তার কাছে ‘পানির মতো পরিষ্কার’ মনে হচ্ছে না। স্টুডিও ভাঙচুরের পেছনে কোনো ‘গোপন উদ্দেশ্য’ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ যেখানে জায়গা দখলের বিষয় বলছে, সেখানে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
মতামত (0)