বিনোদনসালমান শাহ মৃত্যু রহস্য: তিন দশক পর নতুন মোড়
সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য: তিন দশক পর নতুন মোড়
জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর পরও রহস্য কাটেনি। নতুন করে হত্যা মামলা তদন্ত করছে সিআইডি, একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি।
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এর জট আজও খোলেনি। ১৯৯৬ সালে ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। সেই মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিতর্ক চলছে।
রাষ্ট্রীয় তিনটি পৃথক তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়েছিল। তবে তার পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এতে স্বজনরা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশের পর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির তদন্ত করছে।
মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সিআইডি গত মে মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করে। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে দায়িত্ব দেয়। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করায় বিষয়টি এখনও আদালতে নথিভুক্ত রয়েছে।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই দিনে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০ আগস্ট সিআইডি তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।
২৭ আগস্ট আদালত আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলেও এখন পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সিআইডি তা দিতে পারেনি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এবার তদন্ত শেষ হয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। তবে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, আসামিরা দেশে অবস্থান করছেন এবং তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
নীলা চৌধুরী আরও প্রশ্ন রেখে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে আসবে। মামলার বাদী সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম দাবি করেছেন, সালমানের মৃত্যুর সময় সামীরা, ডলি, মনোয়ার ও গৃহকর্মী আবুল বাসায় ছিলেন। তিনি মনে করেন, সামীরাকে পুলিশ খুঁজে না পেলে তার সর্বশেষ স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তার অবস্থান জানা সম্ভব।
আলমগীর কুমকুম আরও বলেছেন, আশরাফুল হক ডন তাদের মূল আসামি ছিলেন না; রিজভী নামে এক আসামির জবানবন্দিতে তার নাম আসে। তাদের মূল অভিযোগ সামীরা এবং তার মা-বাবাকে ঘিরে। তিনি সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর বেশি তথ্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর নতুন করে মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাকি আসামিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এই আইনজীবী দ্রুত তদন্ত শেষ করে আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করেছেন।
অন্যদিকে, কারাগারে থাকা আশরাফুল হক ডনের আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত বছরের অক্টোবরে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও এখনো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মতামত (0)