রাজনীতিসরকার ফ্যাসিস্টের পথে হাঁটছে: বিরোধীদলীয় নেতা
সরকার ফ্যাসিস্টের পথে হাঁটছে: বিরোধীদলীয় নেতা
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ফ্যাসিস্টের রাস্তায় হাঁটছে। তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন।
গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সরকার ফ্যাসিস্টের রাস্তায় হাঁটছে। এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, এখন দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট চলছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আসছে এবং গ্যাস না দিয়েও গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের হাহাকার চলছে বলে তিনি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, লংমার্চে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর রাস্তায় শত শত গাড়ি এই বহরে যুক্ত হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশে পৌঁছাতে পারায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। এর আগে কুমিল্লা নিমসার বাজারে নিমসার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পথসভায়ও তিনি বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, অতীতে একটি নির্বাচনে জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আফসোস প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং তারা সকলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে রায় বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর থাকার কথা বলা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?
তিনি বলেন, ওই দিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন আসার এবং দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম না হওয়ার আশা করেছিল। মানুষ ন্যায়বিচার পাবে, শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হবে না, সন্তানদের ভালো শিক্ষা ও কাজ মিলবে এমন প্রত্যাশা ছিল। চাঁদাবাজি, ঘুষখোরি এবং দুর্নীতি নির্মূল হবে বলেও আশা করা হয়েছিল, কিন্তু তার একটিও হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবে দেশের তত মঙ্গল হবে বলে তখন বলা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করেন, অনির্বাচিত সরকারের সময় পাওয়া সুবিধাগুলো এখন জনগণ পাচ্ছে কিনা। দেশ তো একই আছে, কিন্তু এখন উল্টো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, রাহাজানি এবং মারামারি চলছে। সরকারি দলের লোকেরা দলীয় আনুকূল্যে ও প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসে এবং চুরি-চামারিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তিনি একটি ঘটনার উদাহরণ দেন।
তিনি বলেন, গত বুধবার ঢাকা বিমানবন্দরে একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছিল তিনজন ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরে ধরা পড়ার পর দেখা যায় তারা সবাই ‘বিএনপির লোক’ বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এদেরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেন।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, তারাই সবচাইতে বড় গুপ্ত। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, লংমার্চের ডাক দেওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় ‘জ্বর দেখা দিয়েছে’। তিনি বলেন, এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন, ঈদের পরের আন্দোলন নয়।
ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামকে আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্বাধীনতার সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য শুরু হয়নি। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো কাজ করতে থাকে, তাহলে তাদের কিছু করার নেই।
তিনি বলেন, সরকার আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। চট্টগ্রামের মেয়র প্রসঙ্গে তিনি মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মতামত (0)