ধর্ম

আয়াতুল কুরসির আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, শানে নুযুল, অলৌকিক গঠন, এবং ফজিলত

আয়াতুল কুরসির আরবি পাঠ
আয়াতুল কুরসির আরবি পাঠ
আয়াতুল কুরসি কেবল একটি আয়াত নয়, এটি মুমিনের জীবনের রক্ষাকবচ। এতে আল্লাহর পরিচয় এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যে এটি পাঠ করলে হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভয় বৃদ্ধি পায়। আমাদের উচিত প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত এই আয়াত পাঠ করার অভ্যাস করা। এটি একদিকে যেমন পরকালীন জান্নাতের পথ সুগম করবে, তেমনি পার্থিব জীবনে যাবতীয় অমঙ্গল, শয়তানের আক্রমণ ও জ্বিনের ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করবে।
পবিত্র কোরআনুল কারিম হলো মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এই মহিমান্বিত গ্রন্থের প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াত এবং প্রতিটি শব্দই বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কিছু কিছু সূরার বা আয়াতের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) বর্ণনা করেছেন। তেমনই একটি অনন্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।

আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সূরা, সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। একে ‘কুরআনের শিখর’ বা ‘আয়াতের নেতা’ বলা হয়। এতে মহান আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান এবং সার্বভৌমত্বের এমন এক নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কোনো আয়াতে এককভাবে পাওয়া যায় না। 

আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা আয়াতুল কুরসির আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, শানে নুযুল, অলৌকিক গঠন এবং এর অসংখ্য ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আয়াতুল কুরসির পরিচিতি 


আয়াতুল কুরসি সূরা আল-বাকারার ২৫৫তম আয়াত। সূরা আল-বাকারা কোরআনের দীর্ঘতম সূরা এবং এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরার পরতে পরতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধান থাকলেও আয়াতুল কুরসিকে এর কেন্দ্রবিন্দু মনে করা হয়। এই আয়াতে আল্লাহর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গুণবাচক বাক্য বা সিফাত বর্ণিত হয়েছে।

আয়াতুল কুরসি সূরা আল-বাকারার ২৫৫তম আয়াত। সূরা আল-বাকারা কোরআনের দীর্ঘতম সূরা এবং এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরার পরতে পরতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধান থাকলেও আয়াতুল কুরসিকে এর কেন্দ্রবিন্দু মনে করা হয়। এই আয়াতে আল্লাহর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গুণবাচক বাক্য বা সিফাত বর্ণিত হয়েছে।


নিচে একটি সারণির মাধ্যমে আয়াতুল কুরসির প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হলো:

বিষয় তথ্য
সূরার নাম সূরা আল-বাকারা (Surah Al-Baqarah)
আয়াত নম্বর ২৫৫
পারা নম্বর ৩য় পারার ১ম পৃষ্ঠা
বিষয়বস্তু আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ) ও ক্ষমতা
মর্যাদা কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত


আয়াতুল কুরসি: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ


যেকোনো দোয়া বা কোরআনের আয়াত পড়ার সময় তার সঠিক উচ্চারণ ও অর্থ বোঝা অত্যন্ত জরুরি। নিচে আয়াতুল কুরসি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
আয়াতুল কুরসি আরবি (Arabic Text)
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيْطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ (Bangla Pronunciation)


“আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান যাল্লাযি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম।”
আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ (Bangla Meaning)

“আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।”

আয়াতুল কুরসির শাব্দিক বিশ্লেষণ ও গভীর মর্মার্থ


আয়াতুল কুরসির গভীরতা বুঝতে হলে এর প্রতিটি বাক্যের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন। আল্লামা ইবনে কাসির (র.) এর মতে, এই আয়াতে ১০টি পূর্ণাঙ্গ বাক্য রয়েছে, যার প্রতিটি আল্লাহর এক একটি মহান গুণকে প্রকাশ করে।
  • ১. আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া (اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ)
  • এটি তাওহীদের মূল মন্ত্র। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনি একক, অদ্বিতীয় এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
  • ২. আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম (الْحَيُّ الْقَيُّومُ)
  • ‘হাইয়্যু’ শব্দের অর্থ হলো চিরঞ্জীব। অর্থাৎ যাঁর কোনো শুরু নেই এবং যাঁর কোনো শেষ নেই। আর ‘কাইয়্যুম’ শব্দের অর্থ হলো সবকিছুর ধারক ও নিয়ন্ত্রক। তিনি নিজে প্রতিষ্ঠিত এবং পুরো মহাবিশ্বকে তিনিই টিকিয়ে রেখেছেন।
  • ৩. লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম (لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ)
  • মানুষ বা সৃষ্টিজীব ক্লান্ত হলে তন্দ্রা বা নিদ্রায় যায়। কিন্তু বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা এসব মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত। ‘সিনা’ মানে হলো তন্দ্রা বা হালকা ঝিমুনি, আর ‘নাউম’ মানে গভীর ঘুম। মহাবিশ্ব পরিচালনায় তিনি কখনো অসতর্ক হন না।
  • ৪. লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্ব (لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ)
  • সাত আকাশ এবং এই বিশাল পৃথিবীর মালিকানা একমাত্র তাঁরই। আমরা যা কিছু দেখি বা দেখি না, সবকিছুর প্রকৃত স্বত্বাধিকারী আল্লাহ।
  • ৫. মান যাল্লাযি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহ (مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ)
  • পরকালে বা ইহকালে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো সুপারিশ করার ক্ষমতা নেই। মুশরিকরা ভাবত তাদের দেব-দেবীরা সুপারিশ করে তাদের রক্ষা করবে, এই বাক্যটি সেই ভ্রান্ত ধারণাকে নাকচ করে দেয়।
  • ৬. ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম (يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ)
  • তিনি সৃষ্টিজীবের বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্যক অবগত। কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই।
  • ৭. ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ (وَلَا يُحِيْطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ)
  • মানুষ বা জ্বীন নিজের চেষ্টায় আল্লাহর কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। আল্লাহ কেবল তাকেই জ্ঞান দান করেন, যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বিজ্ঞানের সব আবিষ্কারও আল্লাহর ইচ্ছাধীন জ্ঞানেরই অংশ।
  • ৮. ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব (وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ)
  • এখানে ‘কুরসি’ শব্দের অর্থ নিয়ে ব্যাখ্যাকারদের ভিন্ন মত আছে। কেউ বলেছেন এটি আল্লাহর জ্ঞান, কেউ বলেছেন এটি আল্লাহর ক্ষমতা বা তাঁর মহান আরশের নিচের একটি অংশ। এর বিশালতা এতই বেশি যে তা আসমান ও জমিনকে বেষ্টন করে আছে।
  • ৯. ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা (وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا)
  • আকাশ ও পৃথিবীর মতো বিশাল সৃষ্টিকে রক্ষা করা এবং তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা মহান আল্লাহর জন্য মোটেও কঠিন বা ক্লান্তিকর নয়।
  • ১০. ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম (وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ)
  • পরিশেষে বলা হয়েছে, তিনি সুউচ্চ ও সুমহান। অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সমকক্ষ কেউ নেই।

আয়াতুল কুরসির অসামান্য ফজিলত 


হাদিস শরিফে আয়াতুল কুরসির অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। কেন এই আয়াতটি এত গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে নিচের হাদিসগুলো সহায়ক হবে:
  • ১. জান্নাতে প্রবেশের চাবিকাঠি
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।” (নাসাঈ, তাবারানি)। অর্থাৎ মৃত্যুর পরপরই সে জান্নাতের নেয়ামত উপভোগ করবে।
  • ২. শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তি
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে বলা হয়েছে যে, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহ একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, যে তাকে সারা রাত পাহারা দেয় এবং শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারে না।
  • ৩. কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত
একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "কোরআনের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কোনটি?" তিনি বললেন, "আয়াতুল কুরসি।" নবীজি (সা.) তাঁর বুকে হাত রেখে দোয়া করে বললেন, "হে আবুল মুনজির! তোমার এই ইলমের জন্য তোমাকে মোবারকবাদ।" (মুসলিম)।

  • ৪. অভাব মোচন ও বরকত বৃদ্ধি
নিয়মিত এই আয়াত পাঠ করলে ঘরে বরকত আসে এবং শয়তানের কুপ্ররোচনা ও দারিদ্র্য থেকে দূরে থাকা যায়।

আয়াতুল কুরসি পাঠের উপযুক্ত সময়

যেকোনো সময় আয়াতুল কুরসি পড়া যায়, তবে হাদিস অনুযায়ী কিছু বিশেষ সময় রয়েছে যখন এটি পড়া সুন্নাহ এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
সময়ফজিলত ও উপকারিতা
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরজান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ ও নিরাপত্তা।
রাতে ঘুমানোর আগেসারারাত ফেরেশতাদের পাহারায় থাকা এবং শয়তান থেকে রক্ষা।
সকাল ও সন্ধ্যায়সারাদিন ও সারারাত জ্বিন ও অশুভ শক্তি থেকে নিরাপত্তা।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময়৭০ হাজার ফেরেশতা তাকে চারপাশে পাহারা দেয়।
কোনো বিপদে পড়লেমানসিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর সাহায্য লাভ।

আয়াতুল কুরসির অলৌকিক গঠনশৈলী 

আয়াতুল কুরসির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাষাগত গঠন। আলেমগণ লক্ষ্য করেছেন যে, এই আয়াতের ৯টি বাক্য বা অংশ এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে প্রথম অংশের সাথে শেষ অংশের একটি চমৎকার মিল রয়েছে।
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও ...

১. প্রথম বাক্য: ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ (আল্লাহর সত্তা)। 

২. দ্বিতীয় বাক্য: ‘লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম’ (তন্দ্রা বা নিদ্রা নেই)।

৩. তৃতীয় বাক্য: ‘লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্ব’ (আকাশ ও পৃথিবীর সব তাঁর)। 

৪. চতুর্থ বাক্য: ‘মান যাল্লাযি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহ’ (অনুমতি ছাড়া সুপারিশ অসম্ভব)। 

৫. পঞ্চম বা কেন্দ্রীয় বাক্য: ‘ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম’ (তিনি তাদের সামনে ও পেছনের সব জানেন)। এই বাক্যটি আয়াতের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত, যা আল্লাহর সর্বব্যাপক জ্ঞানকে নির্দেশ করে।

৬. ষষ্ঠ বাক্য: ‘ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ (তাঁর ইচ্ছার বাইরে জ্ঞান অর্জন অসম্ভব)। (উভয় অংশেই আল্লাহর অনুমতি বা ইচ্ছার ওপর নির্ভরতা প্রকাশ পেয়েছে)


৭. সপ্তম বাক্য: ‘ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব’ (তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবী জুড়ে)। (উভয় অংশেই আকাশ ও পৃথিবীর মালিকানা ও ব্যাপ্তির কথা আছে)


৮. অষ্টম বাক্য: ‘ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা’ (রক্ষণাবেক্ষণে তিনি ক্লান্ত হন না)। (উভয় অংশেই আল্লাহর ক্লান্তিহীনতার কথা আছে)


৯. নবম বাক্য: ‘ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম’ (আল্লাহর মহিমা)। (১ এবং ৯ উভয় অংশেই আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণিত)

এই ধরণের অলৌকিক সাহিত্যিক গঠন কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, যা প্রমাণ করে যে কোরআন মহান আল্লাহর বাণী।


শেয়ার:

মতামত (1)

Johone২৯ জুলাই, ২০২৬
Aammin