ধর্ম

মুসলিম হয়েও নামাজ পড়েন না শাবানা আজমি: কারণ জানালেন অভিনেত্রী

মুসলিম হয়েও নামাজ পড়েন না শাবানা আজমি: কারণ জানালেন অভিনেত্রী
মুসলিম হয়েও নামাজ পড়েন না শাবানা আজমি: কারণ জানালেন অভিনেত্রী
বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমি মুসলিম হিসেবে ঈদ, উর্দু ও ইসলামি খাবার উপভোগ করলেও নামাজ পড়েন না বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন। তিনি ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় এবং রাষ্ট্র থেকে আলাদা রাখার পক্ষে মত দেন।

বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বরাবরই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তার স্বামী গীতিকার-চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারও নিজেদের ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে কোনো লুকোচুরি করেননি। ধর্ম নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে শাবানা আজমি তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, মুসলিম হিসেবে ঈদের আনন্দ, উর্দু ভাষার মাধুর্য এবং ইসলামি খাবার উপভোগ করলেও তিনি নামাজ পড়েন না। ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন।

নিজের বেড়ে ওঠা, পারিবারিক পরিবেশ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাবানা আজমি জানান, তার বাবা বিশিষ্ট উর্দু কবি ও গীতিকার কাইফি আজমি ছিলেন নাস্তিক। অন্যদিকে, তার মা শওকত আজমি কিছুটা ধর্মাচরণ করলেও বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন না। ফলে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশি গড়ে ওঠে।

নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মীয় শব্দের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাবানা জানান, তিনি মাঝেমধ্যে ‘মাশাল্লাহ’ কিংবা ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। তবে এসব শব্দের ব্যবহার নিয়ে তার স্বামী জাভেদ আখতার প্রশ্ন তোলেন। শাবানার ভাষ্য অনুযায়ী, জাভেদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বারবার এসব শব্দ কেন বলেন।

জাভেদ তাকে আরও প্রশ্ন করেন যে, কেউ যদি সব সময় তাকে ‘প্রভুজি কি মরজি’ বলে, তাহলে তার কেমন লাগবে। তবে শাবানার মতে, ‘মাশাল্লাহ’ কিংবা ‘ইনশাআল্লাহ’ তার মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরই অংশ। তাই এসব শব্দের ব্যবহারকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখেন।

নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে শাবানা আজমি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম। আমার ঈদ ভালো লাগে, উর্দু ভাষা ভালো লাগে, খাবারও ভালো লাগে। কিন্তু আমরা নামাজ পড়ি না এবং ধর্মের সঙ্গে আমাদের সেই অর্থে কোনো সম্পর্ক নেই।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, মুসলিম পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি তার ভালোবাসা থাকলেও ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গে তিনি নিজেকে সেভাবে যুক্ত করেন না।

তার কাছে ভাষা, উৎসব ও খাদ্যসংস্কৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতাও তাৎপর্যপূর্ণ। এ সময় স্বামী জাভেদ আখতারের ধর্মীয় অবস্থান নিয়েও কথা বলেন শাবানা। তার ভাষ্য, জাভেদ একজন ‘কট্টর নাস্তিক’।

ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে শাবানা বলেন, “রাষ্ট্রের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।” ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাবানা ও জাভেদ। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, দুই সম্প্রদায়ের অসহিষ্ণু ও চরমপন্থি মানুষ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে চান না।

তিনি আরও জানান, একদিকে তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়, অন্যদিকে নানা ধরনের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিজ্ঞতা তাদের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে তিনি মনে করেন। শাবানার মতে, বিষয়টিকে শুধু হিন্দু-মুসলিমের লড়াই হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

বরং এই দ্বন্দ্ব উদারপন্থি ও অসহিষ্ণু মানসিকতার মানুষের মধ্যে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উদারপন্থি হিন্দু-মুসলিমদের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ধর্মবিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে শাবানা আজমির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও ধর্মাচরণ থেকে দূরে থাকা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার পক্ষে তার অবস্থানই উঠে এসেছে অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...