সারাদেশআশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্তকে উদ্ধার করলো পুলিশ
আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্তকে উদ্ধার করলো পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক স্বজনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে মারতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শিশুটির ১৮ বছর বয়সী এক স্বজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুটি একটি মাদ্রাসায় পড়ত। তার লাশ গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত তরুণ শিশুটির একজন স্বজন।
শিশুটির এক স্বজন জানান, গতকাল তাদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলে এবং নিজের ঘরে নিয়ে যায়। শিশুটির মা ছোট ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত তরুণের ঘরের সামনে গিয়ে মেয়ের কথা জানতে চান। অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে দেখেননি বলে জানান। তবে ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখে মায়ের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের ভেতর গিয়ে তিনি বিছানায় শিশুটিকে দুই হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
স্বজনেরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
শিশুটির মা মর্গের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, "কাপড় আনতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘরে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করি। তখন সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে দরজায় জুতা দেখে সন্দেহ হয়। পাশের একটি ঘরে মেয়ের লাশ পাই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
এদিকে, শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দেয় এবং পরে তাকে ছিনিয়ে নিতে ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বেলা সোয়া তিনটার দিকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রাখে। স্থানীয় প্রায় তিন-চার হাজার জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশসহ জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আশুগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
হেলমেট পরিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় লোকজন তার ওপর হামলা চালান। পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, স্থানীয় তিন-চার হাজার জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মেরে ফেলতে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
মতামত (0)