জাতীয়

বিদেশি কারাগারে ১০ সহস্রাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি

বিদেশি কারাগারে ১০ সহস্রাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি
বিদেশি কারাগারে ১০ সহস্রাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি আছেন। সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। আটক এসব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান। যশোর-৫ আসনের বিরোধী দলের সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন দেশের কারাগারে বা ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা সেই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন।

আটককৃতদের ফিরিয়ে আনতে সেই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এই নীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বিধিমালা মেনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগগুলো বন্দিদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশের কারাগারে বন্দি থাকার তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা দ্রুততম সময়ে কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে বন্দির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়।

মিশন কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তাকে বিশদ পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে, তারা বন্দির জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যা তার অধিকার রক্ষায় সহায়ক।

যদি কোনো বন্দির আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা না থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালায়। বন্দির পরিবার যদি আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চায়, তাহলে মিশনের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়।

বন্দিদের মুক্তির জন্য জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে, মিশন বন্দির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই জরিমানা পরিশোধের ব্যবস্থা করে। এই পদক্ষেপ বন্দিদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থাও করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি বন্দিদের দেশে ফেরার পথ সুগম করে।

দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও করা হয়। যদি বন্দির পরিবার প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনে আর্থিকভাবে অসমর্থ হয়, তাহলে সরকারি অর্থে ওই ব্যয় বহন করা হয়ে থাকে, যা মানবিক সহায়তার একটি অংশ।

প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই প্রক্রিয়াগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং বন্দিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মিশনগুলো নিরলসভাবে কাজ করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশস্থ বাংলাদেশের মিশনগুলো এসব সেবা দিয়ে থাকে। এই সমন্বিত উদ্যোগ বন্দিদের দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা সরকারের একটি সামগ্রিক প্রচেষ্টা।

ক্ষেত্রবিশেষে, স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ বন্দিদের দীর্ঘ কারাবাস থেকে মুক্তি লাভে সহায়তা করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলো সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি পোর্টাল চালু করবে। এই পোর্টালটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...