জাতীয়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, প্রশাসনের প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, প্রশাসনের প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নে ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইট চালু করেছে ডাকসু। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। ডাকসু ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রেটিং দিতে পারছেন। এই উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের মতে, শিক্ষক মূল্যায়ন ডাকসুর কাজ নয় এবং এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ডাকসু ভবনের সামনে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ডাকসুর নেতারা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গত দুই দিন ধরে চলছে এবং আগামী সাত দিন এটি চলবে। এরই মধ্যে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন বলে ডাকসু জানিয়েছে।
‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারত্ব এবং সার্বিক সন্তুষ্টি। এসব বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকদের রেটিং পয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে। ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষকের রেটিং দেখা যাচ্ছে, যা ১ থেকে ৫-এর মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশের জন্য ওই ই-মেইলে একটি কোড পাঠানো হবে। কোড ব্যবহার করে প্রবেশের পর একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন, অন্য বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না। এই ব্যবস্থা ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার তত্ত্বাবধানে চালু করা হয়েছে।
উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও বিষয়টির প্রশাসনিক সমাধান না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে পাওয়া সমালোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, এই ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করা নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং একটি কার্যকর ফিডব্যাক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেন, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে, কিন্তু এক বছরেও প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি।
সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনালের মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের পাঠদান কীভাবে হচ্ছে বা কোথায় উন্নতির প্রয়োজন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মতামত নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা এত দিন ছিল না। তিন মাসের মূল্যায়ন ও মতামতের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে, যা পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম ডাকসুর এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নের অফিশিয়াল ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। তিনি ডাকসুর এই কার্যক্রমকে ‘অনধিকার চর্চা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মতামত (0)