সারাদেশ

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসি ও দুই এএসআই প্রত্যাহার

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসি ও দুই এএসআই প্রত্যাহার
ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসি ও দুই এএসআই প্রত্যাহার
চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার ও দুই সহকারী উপপরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নগর পুলিশ কমিশনার গতকাল সোমবার তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন নগর পুলিশের এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী, এএসআই বশির উদ্দিন এবং রেশন শাখার এএসআই মো. সুফিয়ান।

এসি শরীফুলকে নগর পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। নগর পুলিশ কমিশনার গত রোববার জানান, ঘটনার তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পিএমও) মো. বদরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল যে, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মুঠোফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বাইন্যান্স ডলার রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় এলআইসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসি শরীফুল তাঁর কক্ষে তাঁদের কাছে প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা দাবি করেন। দর-কষাকষির পর শাকিলের মুঠোফোনে থাকা সাড়ে ১২ হাজার বাইন্যান্স ডলার ও নগদ ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী শাকিল অভিযোগ করেছেন, শুরুতেই তাঁর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় সাড়ে ১০ হাজার ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। এরপর সিটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা বাইন্যান্সের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হয়। এছাড়া দামপাড়া পুলিশ লাইনের পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে তাঁকে দিয়ে আরও টাকা তোলানো হয়। আর্থিক মুঠোফোন সেবাদাতা অ্যাপের মাধ্যমেও ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাকিলের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাঁর গাড়ি হস্তান্তর করা হয়। তবে তাঁর ১৪টি মুঠোফোন এসি শরীফুল রেখে দেন। আখতারুজ্জামান শাকিল জানিয়েছেন, গেম খেলাকে জুয়া হিসেবে উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মুঠোফোনে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থাকায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। মুঠোফোনগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য একটি আইফোন দেওয়ার দাবি করা হয়। তা না হলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান শাকিলের একটি খামার এবং খাতুনগঞ্জে প্লাস্টিক দানার ব্যবসা রয়েছে। তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে গেম খেলেন বলে জানান। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এলআইসি শাখাটি অত্যন্ত গোপনীয়। এই শাখার কাজ হলো অপরাধী শনাক্ত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।

সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত এই শাখাটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির দরজা থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। এই শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত কোনো অভিযানে যাওয়ারও সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নগর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...