সারাদেশ

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন: পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির অপচেষ্টা দেখছে ছাত্রশক্তি

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন: পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির অপচেষ্টা দেখছে ছাত্রশক্তি
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন: পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির অপচেষ্টা দেখছে ছাত্রশক্তি
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, এর মাধ্যমে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের সমালোচনা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এর মাধ্যমে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা চলছে।

গতকাল সোমবার রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন।

ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ডাকসু কর্তৃপক্ষ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যোগেন মণ্ডল, মাওলানা ভাসানী কিংবা আবুল হাশিমের জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের স্মরণ করার কথা মনে রাখে না। অথচ ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙিয়ে তাকে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা এই মাটির জন্য, এই মানুষের জন্য এবং এই বাংলা ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের নিয়ে ডাকসুকে কখনো কোনো আলোচনা সভা করতে দেখা যায়নি। জিন্নাহকে ‘বীরত্বপূর্ণভাবে’ উপস্থাপনের বিষয়টি ছাত্রশক্তির সমালোচনার মূল কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিছু কাজ করলেও সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দল-গোষ্ঠী অনেক সময় মধুর ক্যানটিনকে অস্বীকার করতে চায়। একইভাবে তারা ১৯৭১ সালের শহীদদের অস্বীকার করতে চায় এবং সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের নাম শুনলে অনেকের অস্বস্তি হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, মধুর ক্যানটিন এবং রাজু ভাস্কর্য উভয়ই তাদের।

হাসিব আল ইসলাম বলেন, তারা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি নিদর্শন ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে চান। কর্মসূচির শুরুতে ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান তিনটি পরিবেশন করেন।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...