ধর্ম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ: পাঁচশ বছরের স্থাপত্য নিদর্শন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ: পাঁচশ বছরের স্থাপত্য নিদর্শন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ: পাঁচশ বছরের স্থাপত্য নিদর্শন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোনামসজিদ পাঁচশ বছরের পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন। এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে, তবে মহাসড়কের কম্পন ও অবকাঠামোগত সমস্যা সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ পাঁচশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যযুগীয় সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এই নিদর্শনটি ইতিহাসপ্রেমীসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।

মসজিদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড় থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে। এখানে যাতায়াতের জন্য বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও অটোরিকশা সহজলভ্য।

বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) মসজিদটি নির্মিত হয়। প্রধান প্রবেশপথের শিলালিপি অনুযায়ী, মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহাম্মদ বিন আলী এটি নির্মাণ করেন।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার এর পুনঃনির্মাণ করে। ইটের তৈরি এই মসজিদের ওপর পাথরের স্তর বসানো হয়েছে।

মসজিদের বাইরের পরিমাপ ৮২ ফুট বাই ৫২.৫ ফুট। ভেতরের পরিমাপ ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি বাই ৪০ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং এর উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। এতে তিনটি মাঝারি গম্বুজ, ছয়টি করে পাশের গোলাকার গম্বুজ এবং তিনটি চৌচালা গম্বুজ রয়েছে।

চারদিকে চারটি অষ্টকোণাকৃতির বুরুজ এবং প্রবেশপথে তোরণ দেখা যায়। দেয়ালে খোদাইকৃত পাথরের কারুকার্য ও ইটের সজ্জা রয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং শহীদ মেজর নাজমুল হক টুলুর কবর অবস্থিত।

পর্যটকরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন এবং আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। বগুড়ার কায়েস আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই সোনামসজিদের গল্প শুনেছেন এবং নিজ চোখে দেখে তার ভালো লেগেছে।

রাজশাহীর মাইনুল ইসলাম দিপু বলেন, ছোটবেলা থেকেই এখানে আসার ইচ্ছে ছিল এবং সবকিছু দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন। সোনামসজিদের আশপাশে দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, খঞ্জন দিঘির মসজিদ, তহখানা কমপ্লেক্স, তিন গম্বুজ মসজিদ, শাহ নিয়ামতউল্লাহর মাজার ও ধনিয়াচক মসজিদ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতিবেগের কারণে মসজিদে কম্পন অনুভূত হয়। এটি স্থাপনাটিকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে তারা উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, পুরাতন মসজিদটির কোনো ক্ষতি না হয়, সেই আশঙ্কা থাকেই।

শাহবাজপুর ইউনিয়নের কবির আলী জানান, পর্যটকরা সড়ক, টয়লেট ও বিশ্রামাগারের অভাবে সমস্যায় পড়েন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আসিফ বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৪৮১ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। মসজিদের সামনে ঢালাই এবং উন্নত প্রযুক্তির কাঁচের দেওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে কম্পনের কারণে কোনো ক্ষতি না হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী বলেন, সোনামসজিদসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচশ বছরের ইতিহাসের ধারক এই সোনামসজিদ একটি ধর্মীয় স্থাপনা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অংশ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...