জাতীয়চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি
বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) গতকাল বুধবার সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, যেখানে তাঁর প্রতি মানবিক ও আইনগত সহযোগিতা এবং আট দফা দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) গতকাল বুধবার সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। স্মারকলিপিতে তাঁর প্রতি মানবিক ও আইনগত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। বিএসপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর মায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিএসপি মনে করে।
বিএসপির সভাপতি অনুপ কুমার দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন বিএসপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রনবানন্দ মহারাজ ও টনি মল্লিক এবং জাগো হিন্দু পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় বণিক। বিএসপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপিতে বিএসপি বলেছে, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তাঁর দীর্ঘদিনের হাজতবাসের বিষয়টি আইন, ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রকাশ্যে প্রতিবাদ ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঘোষিত আট দফা দাবির পক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাঁকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ ও আইনগত বিষয় নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পারিবারিক পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে স্মারকলিপিতে বিএসপি উল্লেখ করেছে। তাঁর জন্মের আগেই তাঁর বাবা মারা যান এবং বর্তমানে তাঁর মা অত্যন্ত অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ হাজতবাসের কারণে তাঁর মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় পাশে থাকার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি ছাড়াও স্মারকলিপিতে আট দফা দাবি জানিয়েছে বিএসপি। এর মধ্যে রয়েছে রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার বিষয়ে অবিলম্বে জুডিশিয়াল তদন্ত গ্রহণ করা। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করার দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত। নারায়ণগঞ্জের কটন মিলের মন্দির উদ্ধার ও পূজা-অর্চনার জন্য পুরোহিতসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দ্রুত কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও সম্পদ-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে। দেশের সব নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করার আহ্বানও বিএসপি তাদের স্মারকলিপিতে জানিয়েছে।
মতামত (0)