সারাদেশ

চট্টগ্রামের বাজারে মাছ-ডিমের মিশ্র দর, সবজিতে স্বস্তি

চট্টগ্রামের বাজারে মাছ-ডিমের মিশ্র দর, সবজিতে স্বস্তি
চট্টগ্রামের বাজারে মাছ-ডিমের মিশ্র দর, সবজিতে স্বস্তি
চট্টগ্রামের বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে তেমন স্বস্তি আসেনি, তবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে, কিন্তু মাছ ও মাংসের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। আজ শুক্রবার বাণিজ্যিক রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। মাছ, মুরগি ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি, সেগুলো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন ডিমে ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।

মুরগি ও মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে; সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে, তবে কিছু মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে এবং কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। পাহাড়তলী বাজারের এক ক্রেতা মো. মিজানুর রহমান জানান, মধ্যবিত্তদের জন্য পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ কিনতে কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মুরগি ও মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য কোনো কমতি দেখা যায়নি।

পুকুরে চাষ করা পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ২৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

পোয়া মাছ ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে হলে হাজারের বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা খোকন বলেন, মাছের দাম নির্দিষ্ট থাকে না, সরবরাহ ও আবহাওয়ার উপর দাম অনেক সময় নির্ভর করে। তিনি জানান, আজ কাতলা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি এবং শিং ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজ মাছের সরবরাহ ও ক্রেতা উভয়ই রয়েছে।

মুরগি বিক্রেতা মাহবুব আহমেদ জানান, গত সপ্তাহের মতোই ১৯০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২১০ টাকা ছিল, আজকেও ২১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে। ডিম ব্যবসায়ী কাদের বলেন, ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে, ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দাম বাড়ায় নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন। বাজারে তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতে গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ২৫০ টাকা। বাড়তি দামের কারণে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার নিয়মিত মাছ কেনাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। কাজির দেউরি বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা নিম্নমুখী। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে, কিছু সবজির দাম আরও বেশি কমেছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টি না হলে দাম আরও কমত বলে তিনি উল্লেখ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে দর আরও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নয়াবাজারে কেনাকাটা করতে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসাইন বলেন, সবজি ও নির্দিষ্ট কিছু মাছে অল্প টাকা কমেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজারে প্রচুর ইলিশ দেখা গেলেও অতিরিক্ত দামের কারণে সেদিকে চোখই দেওয়া যায় না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...