সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তার চুরি মামলায় রঞ্জন চন্দ্রের জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তার চুরি মামলায় রঞ্জন চন্দ্রের জামিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তার চুরি মামলায় রঞ্জন চন্দ্রের জামিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির মামলায় অভিযুক্ত রঞ্জন চন্দ্রকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালত ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় অভিযুক্ত রঞ্জন চন্দ্রের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৬–এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদালত রঞ্জন চন্দ্রকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন প্রদান করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী পারেমল চন্দ্র বর্মন আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এই একই মামলায় গত মাসে আরও দুজন আসামি জামিন পেয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত রঞ্জন চন্দ্রের বর্তমান বয়স ২৬ বছর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সচিবালয়ের পুরোনো ভবন ১, ২ ও ৩-এর ছাদ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তার চুরি হয়। গত ২২ মে সকাল ১০টা থেকে ১ জুন সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো একসময় বিটিসিএলের এই তামার তারগুলো চুরি করা হয়েছিল। চুরি হওয়া সরকারি কেবলের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১১০ মিটার।

চুরি হওয়া তারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিটিসিএলের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবীর বাদী হয়ে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি শাহবাগ থানায় নথিভুক্ত করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

চুরির ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুন পুলিশ সচিবালয় এলাকা থেকে আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন, অর্থাৎ গত ৫ জুন আদালত গ্রেপ্তারকৃত রঞ্জন চন্দ্র এবং রিজাকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র চুরির ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, চুরি করা কেবল থেকে তিনি তামা বের করেছিলেন। পরে সেই তামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত ‘মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামের একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেন।

রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তামার ক্রেতা হিসেবে মাহাবুব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তিন অভিযুক্ত আসামি ঘটনার পর থেকে কারাগারে ছিলেন। এখন রঞ্জন চন্দ্র আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...