সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে আট মাসে আট পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

কিশোরগঞ্জে আট মাসে আট পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত
কিশোরগঞ্জে আট মাসে আট পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত
কিশোরগঞ্জ জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

কিশোরগঞ্জ জেলায় এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া এই ৮ জনই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জেলায় গত ৬ বছর ৮ মাসে মোট ২৫ জনের শরীরে এইচআইভির ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর যোগ দিয়েছেন সাইদুর রহমান। জেলার এইচআইভি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিভিল সার্জন জানান, এ বিষয়ে কর্মসূচি এবং পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রতিকারের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটি ২০১০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলায় কাজ করছে। তাদের দুটি কার্যালয় রয়েছে; একটি ভৈরব কার্যালয় যা জেলার ৬টি উপজেলা নিয়ে কাজ করে এবং অন্যটি কিশোরগঞ্জ কার্যালয় যা ৭টি উপজেলাকে কভার করে।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় কারো শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়নি। তবে পরের ৬ বছর ৮ মাসে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেছে। যেসব ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই যানবাহনের চালক, হকার এবং নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন ভৈরব কার্যালয়ের অধীন এবং ৩ জন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন রয়েছেন। চলতি বছর শনাক্ত হওয়া ৮ জনের মধ্যে ৫ জন ভৈরব কার্যালয়ের অধীন উপজেলার এবং ৩ জন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন উপজেলার বাসিন্দা। এইচআইভি আক্রান্ত এই ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার ভৈরব কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২৫ জনের মধ্যে ২ জন চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন। পরে জানা গেছে, তাঁরা বিদেশে চলে গেছেন। বাকি আক্রান্ত ব্যক্তিরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন, যা এইচআইভি সংক্রমণ রোধে একটি চিকিৎসাপদ্ধতি। আক্রান্ত সবাইকে রক্ত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর জানান, তিনি ওই বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। এই প্রতিবেদন থেকেই তিনি কিশোরগঞ্জের এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পারেন। এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন যাপন করার পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে দেশে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...