স্বাস্থ্য

ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় বাড়ছে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ

ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় বাড়ছে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ
ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় বাড়ছে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ
ধূমপান ও বায়োমাস জ্বালানির ধোঁয়া বাংলাদেশে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ সিওপিডির প্রধান কারণ। এটি শ্বাসনালি ও বায়ুথলি ক্ষতিগ্রস্ত করে শ্বাসকষ্ট বাড়ায়।

বাংলাদেশে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির অন্যতম কারণ হিসেবে ধূমপান এবং কাঠ, খড়, গোবর বা কয়লার মতো বায়োমাস জ্বালানির ধোঁয়ার দীর্ঘদিনের সংস্পর্শে থাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরনের ধোঁয়া ফুসফুসের ক্ষতি করে এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে। এটি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা যেখানে শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়।

সিওপিডি রোগে ফুসফুসের বায়ুথলি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে রোগীরা পর্যাপ্ত বাতাস গ্রহণ করতে পারেন না এবং সময়ের সাথে সাথে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। এই রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান।

রান্নার ধোঁয়ার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও সিওপিডির একটি বড় কারণ। এছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালু ও রাসায়নিক কারখানায় কাজের পরিবেশ এই রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। বংশগত আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিনের ঘাটতিও (যদিও বিরল) এই রোগের একটি কারণ হতে পারে।

সিওপিডির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের কাশি এবং কফ বের হওয়া। হাঁটার সময় বা সিঁড়ি ভাঙলে শ্বাসকষ্ট অনুভব করাও এই রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ। শ্বাসের সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া এবং বুকে ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়াও দেখা যায়।

রোগ তীব্র হলে একসময় বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিন ধরে কাশি রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা সিওপিডির ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। দীর্ঘদিনের ধূমপায়ীরা এই রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। গ্রামের যে নারীরা কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে রান্না করেন, তাদের মধ্যেও এই রোগের প্রবণতা দেখা যায়।

ইটভাটা, বিভিন্ন কারখানা বা ধুলাবালিপূর্ণ পরিবেশে কর্মরত ব্যক্তিরাও সিওপিডির বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যাদের তিন মাসের বেশি কাশি থাকে, কফের পরিমাণ বাড়ে, হাঁটতে কষ্ট হয়, অথবা বারবার শ্বাসকষ্টের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তাদের দ্রুত বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি স্পাইরোমেট্রি নামক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে বুকের এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান এবং অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষাও করা হয়।

সিওপিডির চিকিৎসায় রোগীকে সম্পূর্ণরূপে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। সঠিক নিয়মে ইনহেলার ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও নেবুলাইজ করা আবশ্যক। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার বন্ধ করা উচিত নয়।

এই রোগের চিকিৎসায় পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা গ্রহণ করাও প্রয়োজন। গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অক্সিজেন থেরাপিও দেওয়া হয়।

প্রতিরোধের জন্য ধূমপান অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। কাঠ বা খড়ের চুলার পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত হাঁটাচলা করা এবং শ্বাসের ব্যায়াম করাও উপকারী। ধুলাবালু ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা এই রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...