অর্থনীতি

একীভূত ব্যাংকের টাকা ফেরতে ২ দিনে ৩৭ হাজার আবেদন, চাওয়া ২,৩০০ কোটি টাকা

একীভূত ব্যাংকের টাকা ফেরতে ২ দিনে ৩৭ হাজার আবেদন, চাওয়া ২,৩০০ কোটি টাকা
একীভূত ব্যাংকের টাকা ফেরতে ২ দিনে ৩৭ হাজার আবেদন, চাওয়া ২,৩০০ কোটি টাকা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। প্রথম দুই দিনে ৩৭ হাজার আমানতকারী ২,৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা দিয়েছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার এই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকরা তাদের জমা টাকা তোলার জন্য আবেদন জমা দিতে শুরু করেছেন। এর ফলে এসব ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা আবেদন জমা দিতে আসা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন।

আবেদন গ্রহণ শুরুর প্রথম দুই দিনে মোট ৩৭ হাজার আমানতকারী টাকা ফেরতের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে আমানতকারী গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন।

এর মধ্যে কয়েক হাজার গ্রাহক প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আসল ফেরত চেয়েছেন। এই গ্রাহকরা মুনাফা বা সুদ না নেওয়ার শর্তে কেবল আসল টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। বাকি ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আমানতকারীরা সুদাসলসহ ফেরত চেয়েছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, টাকা উত্তোলনের জন্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের কাছ থেকে আগামী রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আমানতকারী ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। গতকাল বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, প্রায় ১৯ হাজার আমানতকারী এক হাজার কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা দিয়েছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আমানত ফেরতের এসব আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের তাদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন জমা দিতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এই পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়।

এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল অন্য একটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত পূর্ববর্তী সরকারের মেয়াদের সময় এই ব্যাংকগুলোর ৮০ শতাংশ ঋণ লুটপাট হয়েছিল। এর ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পদক্ষেপ নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে, এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।

কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামগ্রিক বিষয়ে গতকাল বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদারের একটি ভিডিও বার্তা পাঠানো হয়।

ওই বার্তায় ব্যাংকটির এমডি বলেন, "৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রথম দিনে আমরা ১৮ হাজার আবেদন পেয়েছি। যাঁরা একবারে পুরো আসল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা মোট আমানতকারীর তুলনায় খুবই কম। তাতে বোঝা যাচ্ছে, এখনো মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে আমাদের ওপর।"

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...