অর্থনীতি

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লকের অভিযোগ

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লকের অভিযোগ
সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লকের অভিযোগ
একজন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিলেও ১৩তম দিনেই তার অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করে দিয়েছে।

একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ও কার্ড ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের সময় দিলেও ১৩তম দিনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক।

মনসুরুল আজিজ নামের একজন গ্রাহক এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যাংকে তার একটি সঞ্চয়ী হিসাব, একটি ডেবিট কার্ড এবং একটি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে।

গ্রাহক মনসুরুল আজিজ জানান, ব্যাংকটি কিছুদিন পরপরই তার কাছে কর্মসংস্থানের প্রমাণপত্র, বেতন স্লিপ এবং আয়কর রিটার্নসহ বিভিন্ন হালনাগাদ নথি চেয়ে পাঠাচ্ছে। এই ধরনের ঘন ঘন নথি চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

গ্রাহকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের কেওয়াইসি বা কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত কোনো প্রয়োজন থাকলে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে একই ধরনের নথি বারংবার চাওয়ার প্রয়োজন কী, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

মনসুরুল আজিজ জানতে চেয়েছেন, অন্যান্য ব্যাংক একই ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব এবং কার্ডসেবা পরিচালনা করলেও তার ক্ষেত্রে কেন বারবার এই ধরনের নথি চাওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে তিনি একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রাহক উল্লেখ করেন, নথি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, তা শেষ হওয়ার আগেই তার অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের একটি ই-মেইলে তাকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় চাকরির নথি জমা দিতে বলা হয়।

কিন্তু ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ১৫ দিনের মধ্যে ১৩তম দিনেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি তার ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গ্রাহক জানতে চেয়েছেন, ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়ার পর ১৩তম দিনেই অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করার কোনো বিধান প্রচলিত আছে কি না। তিনি এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নির্দেশনার আওতায় পড়ে, নাকি এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন মনসুরুল আজিজ। তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন।

গ্রাহকের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি নিজের অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। এর ফলে তার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এতে সৃষ্ট ভোগান্তির দায়ভার কার, সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন। গ্রাহক তার আর্থিক লেনদেনে অপ্রত্যাশিত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের তথ্য হালনাগাদ, কেওয়াইসি এবং কমপ্লায়েন্স যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নথি চাওয়া একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে কোনো গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তার সেবা বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক।

মনসুরুল আজিজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন রেখেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগে কোনো ব্যাংক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করতে পারে কি না।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম কী, তা পরিষ্কার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। গ্রাহক একটি স্বচ্ছ এবং নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রত্যাশা করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...