অর্থনীতিরপ্তানিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত, প্রবৃদ্ধি ৫.৪৩ শতাংশ
রপ্তানিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত, প্রবৃদ্ধি ৫.৪৩ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৪৩ শতাংশ বেশি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাস মিলিয়ে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানিকৃত ৮৬৯ কোটি ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্টে মোট ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। আগস্ট মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩৮৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারে। এতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
পোশাক খাতের দুটি প্রধান উপখাত নিট ও ওভেন—উভয়টিতেই আগস্ট মাসে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। নিট পোশাক রপ্তানি ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ওভেন পোশাকের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
জুলাই-আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, নিট পোশাক খাত এগিয়ে রয়েছে। এই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
শুধু তৈরি পোশাকই নয়, অপ্রচলিত কয়েকটি রপ্তানি পণ্যেও আগস্ট মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ রপ্তানিতে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং মুদ্রিত সামগ্রীতে ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এছাড়াও, প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানিতে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে মুদ্রিত সামগ্রীতে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একই সময়ে অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও আগস্ট মাসে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই মাসে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট মাস মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে আবারও যুক্তরাজ্য উঠে এসেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।
উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বাড়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। আগস্টে তুরস্কে রপ্তানি ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে ক্রেতাদের আস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেশি মূল্য সংযোজন হয়—এমন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিকে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকার মতো খাতগুলোর ভালো ফলাফল রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনাকে নির্দেশ করছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এসব খাতের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
মতামত (0)