রাজনীতিগণবিরোধী কাজ নিয়ে এগোচ্ছে বিরোধী দল: রিজভী
গণবিরোধী কাজ নিয়ে এগোচ্ছে বিরোধী দল: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ বলেছেন, বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ না করে গণবিরোধী কাজ নিয়ে এগোচ্ছে, যা জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না। তিনি সরকারের রিজার্ভ বৃদ্ধি ও উন্নয়নের ইতিবাচক দিকগুলো আড়াল করার জন্য বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন।
আজ রোববার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ না করে রাজপথ বেছে নিচ্ছে, যা জনগণ ভালোভাবে দেখছে না। বিরোধী দল গণবিরোধী কাজ নিয়ে এগোচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, বিরোধী দল পার্লামেন্টে ভালো কথা বললেও বাইরে এসে ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছয় মাস যেতে না যেতেই বিরোধী দল লংমার্চসহ নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজগুলোকে ঊর্ধ্বে তুলে না ধরে বা গঠনমূলক সমালোচনা না করে তারা রাজপথে উপস্থিতি দেখাচ্ছে বলে জানান তিনি।
একসময় দেশের রিজার্ভের পরিমাণ তলানিতে নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে সেই রিজার্ভ আড়াই গুণ বেড়েছে বলে রিজভী উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সরকার কি কাউকে টাকা পাচারের কথা বা দুর্নীতির কথা বলেছে? তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ ভেঙে মেগা প্রকল্পের নামে টাকা পাচারের ঘটনা তারেক রহমানের আমলে ঘটেনি।
রিজভী জানান, সরকারের বিভিন্ন খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী, সেগুলোকে আড়াল করতেই বিরোধী দল লংমার্চ বা এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল একটি গণবিরোধী চরিত্র নিয়েই কথা বলছে ও কাজ করছে এবং অন্যায়, বেআইনি ও অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে বিরোধী দলের যদি কোনো বিকল্প প্রস্তাব থাকত, তাহলে তারা পার্লামেন্টে আলোচনা করতে পারতেন বলে রিজভী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তারা ডাটা-স্ট্যাটিস্টিকস বা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে জ্বালানি আনার পদ্ধতি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে দায়িত্বশীল বিরোধী দল যেভাবে কথা বলে, তারা সেভাবে বলেনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিরোধী দল প্রথমেই 'স্ট্রিট ফাইটিংয়ে' নেমে পড়ছে বা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যারা অশ্রাব্য, কুশ্রাব্য, অশ্লীল কথা বলছে, বিরোধী দল তাদের প্রশ্রয় ও সমর্থন দিচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে, এমনকি সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধেও নোংরা কথা বলা হচ্ছে, যা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
রিজভী অভিযোগ করেন, আইনি ব্যবস্থার সমর্থন না দিয়ে বিরোধী দল উল্টো গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলছে। এর মানে হলো, তারা অন্যায়, অবৈধ পন্থা এবং সমাজকে ঘৃণা ও অসভ্য কথায় ভরিয়ে তোলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ও সমর্থন দিচ্ছে। তিনি এই কাজকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মনে করেন।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সঠিক গণতান্ত্রিক পন্থা হলো পার্লামেন্টের ভেতরে কথা বলা। পার্লামেন্টের বাইরেও কর্মসূচি, আলোচনা, সভা-সমাবেশ করে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া যায়, যা সরকারকে আরও সতর্ক করবে। তিনি বলেন, ভুলত্রুটি দেখানোর বদলে তারা ভিন্ন পন্থা নিয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কাঠামো বা গণতন্ত্রের চারাকে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেখানে যত প্রকার ব্যানার ও বিলবোর্ড রয়েছে, নেতাকর্মীদের সেগুলো সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা: জাহিদুল ইসলাম।
মতামত (0)