গতকাল শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে একটি দীর্ঘ গণযাত্রা শুরু হয়। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শাপলা চত্বর এবং চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠ উভয়ই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এই লংমার্চের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা এবং সরকারের কাছে সেগুলো পৌঁছে দেওয়া।
সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে গাড়িবহরটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। পথে পথে এই বহরে আরও অসংখ্য গাড়ি যুক্ত হতে থাকে, যা কর্মসূচির পরিধি বাড়ায়। যাত্রাপথে শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো; কোনো বড় ধরনের যানজট বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
লংমার্চের পথে পথে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। ছোট থেকে বুড়ো সকল বয়সের মানুষ বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে রাস্তার দু'পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারা প্রিয় নেতাদের একনজর দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্বাগত জানায়।
জনগণ তাদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্লে কার্ড, ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন করে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে জনতা যেন ভিন্ন এক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে। তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি শান্তিময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
যাত্রাপথে চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং মীরেরসরাইসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পথসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সমাবেশগুলোতে উপস্থিত হয়ে কানায় কানায় পূর্ণ করে তোলে।
এই সমাবেশগুলো থেকে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয়। উপস্থিত জনতা "গ্যাস দে, বিদ্যু দে, নইলে গদি ছেড়ে দে" স্লোগান দিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনের সংকট তুলে ধরে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের দাবি ছিল তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
লংমার্চের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই মাসের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। এছাড়াও বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করাও ছিল এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিক।



মতামত (0)