ইসলামী শরিয়তে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মৃত্যুর পর তাদের জানাজা, কাফন ও দাফনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। মুসলিম হিসেবে তাদের প্রতি অন্যান্য মুসলমানের মতোই শেষকৃত্যের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই বিধানগুলো মৃত ব্যক্তির সম্মান ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ।
মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো ইসলামী শেষকৃত্যের প্রথম ধাপ। এটি মৃতদেহকে পবিত্র করার জন্য অপরিহার্য। মৃতদেহকে পরিষ্কার ও পবিত্র পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়, যা তাকে পরকালের যাত্রার জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রক্রিয়াটি মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
গোসলের পর মৃতদেহকে কাফনের সাদা কাপড় পরানো হয়। এটি মৃত ব্যক্তির শরীর আবৃত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। পুরুষদের জন্য সাধারণত তিন টুকরা এবং নারীদের জন্য পাঁচ টুকরা কাফনের কাপড় ব্যবহারের নিয়ম প্রচলিত। এই কাপড়গুলো সাধারণত সাদা ও সেলাইবিহীন হয়ে থাকে, যা দুনিয়ার সকল জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্তির প্রতীক।
হিজড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক গঠন অথবা প্রচলিত লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে পুরুষ বা নারীর কাফন বিধান অনুসরণ করা হয়। ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না। কাফন পরানো শেষে মৃতদেহকে জানাজার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
কাফন পরানোর পর জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। এই নামাজ ফরজে কেফায়া, যা সমাজের কিছু মুসলমান আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালিত হয়। জানাজার নামাজে মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করা হয়। এটি মৃত ব্যক্তির প্রতি মুসলিম সমাজের সম্মিলিত প্রার্থনা।
জানাজার নামাজ কোনো রুকু, সিজদা বা তাশাহহুদবিহীন একটি বিশেষ প্রার্থনা। এতে চারটি তাকবীর থাকে এবং প্রতিটি তাকবীরের পর নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা হয়। প্রথম তাকবীরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরুদ শরীফ, তৃতীয় তাকবীরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং চতুর্থ তাকবীরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা হয়।



মতামত (0)