সারাদেশ

জামায়াতের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন
জামায়াতের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যা ভালো ফল আনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তিনি এই পদক্ষেপকে সতর্ক করে বলেছেন, এটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটকের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। সেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের ‘স্ট্রিট মেমোরি স্টাম্প’ পরিদর্শন করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন, যারা বিরোধী দলে আছে তারাও এই প্রক্রিয়ার অংশীজন। তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উল্লেখ করেন যে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট লংমার্চের ডাক দিচ্ছে। তিনি বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন যে, এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে।

রাশেদ খাঁন জামায়াতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসানের মন্তব্য প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রাকিবুল হাসান ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন এবং একটি অডিওতে পুলিশি সক্ষমতা ও শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন রাখেন, ১৬ বছরে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তী সরকার করতে পেরেছিল কি না।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের পক্ষেও রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি জামায়াতকে উল্লেখ করেন, যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে একধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, এই সরকার মাত্র সাত মাস বয়সী। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে এই লংমার্চের মাধ্যমে।

রাশেদ খাঁন প্রশ্ন রাখেন, এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ করা যায় কি না। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান, যা জনগণের মনে একধরনের সন্দেহ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি ছক তৈরি করছে কি না, এই প্রশ্ন জনগণের মনে রয়েছে। রাশেদ খাঁন বিরোধী জোটের চট্টগ্রামের লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভ করা হচ্ছে।

তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার আওয়ামী লীগের নেতার প্রাডো গাড়িতে করে চট্টগ্রামে লংমার্চে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। রাশেদ খাঁন জামায়াতসহ ১১ দলকে আহ্বান জানান, যদি তারা প্রকৃতপক্ষে জনবান্ধব হন, তবে ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে আসার জন্য। তিনি লংমার্চের নামে লং ড্রাইভের মতো কোনো উসকানি প্রত্যাশা করেন না।

আট দফা দাবিতে ১১–দলীয় ঐক্য আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...