জাতীয়

জেরায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নালিশ

জেরায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নালিশ
জেরায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নালিশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধে জেরায় সময় অপচয়ের অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধে সময় অপচয়ের অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল (মঙ্গলবার) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এই অভিযোগ উত্থাপন করে। আইনজীবী মো. মনজুর আলম যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির ঘটনায় করা মামলার সাতজন আসামির পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছেন।

২০১৬ সালের ওই ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজন আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের পক্ষে মনজুর আলম রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন আসামিরও আইনজীবী। গতকাল তিনি এই সাত আসামির পক্ষে একজন সাক্ষীকে জেরা করার সময় প্রসিকিউশন তাঁর বিরুদ্ধে সময় অপচয় করার অভিযোগ আনে।

পরে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুর আলমের জেরার ধরন ও ভঙ্গি দেখে প্রসিকিউশনের মনে হয়েছে তিনি ‘ডিলেটরি ট্যাকটিস’ বা দেরি করার কৌশল অবলম্বন করছেন। প্রসিকিউশনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আইনজীবী মনজুর বেশ কিছু অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় এবং গ্রহণযোগ্য নয় এমন জেরা করেছেন। তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপত্তি জানিয়েছেন, যার কিছু অংশ ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণ করেনি।

গতকাল ট্রাইব্যুনাল-১-এ মোট তিনটি মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির ঘটনায় করা মামলাটি ছিল ৩ নম্বরে। সকালে এই মামলায় একজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী কিছুক্ষণ জেরা করেন।

কিছুক্ষণ বিরতির পর বেলা একটার দিকে ট্রাইব্যুনাল পুনরায় বসেন। তখন ১ নম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। এরপর ২ নম্বরে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলায় কিছুক্ষণ শুনানি চলে।

পরে ৩ নম্বর মামলায় সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুর আলম। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল পূর্বে জানিয়েছিল যে, ৩ নম্বর মামলায় সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হলে ২ নম্বরে থাকা জিয়াউল আহসানের মামলার আরও শুনানি হবে।

জেরার সময় প্রসিকিউশন একাধিকবার আইনজীবী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে সাক্ষীকে অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় এবং একই ধরনের প্রশ্ন বারবার করে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উত্থাপন করে। এই অভিযোগগুলো বারবার করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুর আলম তখন বলেন, তিনি এই মামলার সাতজন আসামির পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর মধ্যে পাঁচজন পলাতক এবং দুজন গ্রেপ্তার আছেন। প্রসিকিউশনই তাঁকে জানিয়েছে যে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি উপস্থিত আসামির পক্ষেও আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে তাঁকে প্রশ্ন করতে হচ্ছে।

প্রসিকিউশনের আপত্তির মুখে আইনজীবী মনজুর আলমকে একই ধরনের কথা একাধিকবার বলতে শোনা যায়। বিচারকাজের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আইনজীবী মনজুরের লক্ষ্য হচ্ছে ওই মামলা বিলম্বিত করা।

এ সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, এটা কী ধরনের মানসিকতা। এখানে তাঁকে জড়ানো হচ্ছে কেন। এরপর প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তারও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেরায় সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

তখন ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে বলেন, এগুলো আপনাদের বক্তব্য। তাঁদের অর্থাৎ আসামিপক্ষের আইনজীবীর দিকটাও দেখতে হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের মামলার পরবর্তী দিন আজ (বুধবার) ধার্য করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...