যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা, পরিবার নিয়ে বসবাস কিংবা ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতির তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স বা লিংকডইনে দেওয়া তথ্য যদি ভিসা আবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা আবেদনকারীর জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। একইভাবে সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা বা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন অনলাইন কর্মকাণ্ডও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।
মার্কিন ভিসা আবেদনে নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে গত পাঁচ বছরে ব্যবহৃত পরিচয় বা ‘সোশ্যাল মিডিয়া আইডেন্টিফায়ার’ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর নাম, ইউজারনেম, হ্যান্ডেল বা প্রোফাইলের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে সামাজিকমাধ্যমের হ্যান্ডেল চাওয়ার অর্থ পাসওয়ার্ড চাওয়া নয়। ভিসা আবেদনকারীদের নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত পরিচয় বা হ্যান্ডেল দিতে হয়।
ভিসা যাচাইয়ের সময় সামাজিকমাধ্যমের তথ্যের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় আসতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া নাম ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রকাশ্য অনলাইন তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা দেখা হতে পারে। এক প্রতিষ্ঠানে চাকরির তথ্য দেওয়া হলেও সামাজিকমাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন কর্মস্থলের তথ্য থাকলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডিগ্রি বা সময়কালের সঙ্গে প্রকাশ্য অনলাইন তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন করা ভিসার উদ্দেশ্যের সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশ করা তথ্যের গুরুতর অসামঞ্জস্য থাকলে তা যাচাইয়ের বিষয় হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা, উগ্রবাদ বা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিসংক্রান্ত তথ্য থাকলে তা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সামাজিকমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতেও রাজনৈতিক বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে কোনো পোস্টে সহিংসতার আহ্বান, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বা আইন অনুযায়ী ভিসার অযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সমালোচনা করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।



মতামত (0)