সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে সড়ক নির্মাণে ভোগান্তি, বন্ধ পথচারীদের চলাচল

মুন্সিগঞ্জে সড়ক নির্মাণে ভোগান্তি, বন্ধ পথচারীদের চলাচল
মুন্সিগঞ্জে সড়ক নির্মাণে ভোগান্তি, বন্ধ পথচারীদের চলাচল
মুন্সিগঞ্জের বৈখর এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে পুরো পথ বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

মুন্সিগঞ্জ শহরের বৈখর এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের কারণে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে পথচারীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কের এক পাশে গর্ত করে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে অন্য পাশে, যা চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে বৈখর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের জন্য সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ। সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খনন করা হয়েছে এবং কোথাও মাটির স্তূপ বা বড় বড় নালা তৈরি হয়েছে। এর পাশেই অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত, ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি থেকে শাহ আলম শেখের বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তিনি একদিকে চলাচলের ব্যবস্থা রেখে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানান।

দুই শিশুশিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন অভিভাবক বিউটি আক্তার। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় নালা এবং সড়ক উঁচু-নিচু। শুকনো অবস্থায়ও বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কঠিন, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিকল্প পথে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

তিনি আরও জানান, সামনে বাচ্চাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বিদ্যালয়ে না এসেও পারা যাচ্ছে না, তাই প্রতিদিন ভোগান্তি ও গর্তে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ও ড্রেনের কার্যাদেশ অনেক আগে হলেও প্রায় তিন মাস আগে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, আর ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। তাঁদের অভিযোগ, কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

খনন করা অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকছে এবং খনন করা মাটি সড়কের অন্য অংশে ফেলে রাখায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিন কাজ করার পর আবার পাঁচ দিন কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে, এতে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে শহর ও বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

যাঁদের বাড়ি থেকে বের হলে এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি জানাননি, বরং উন্নয়নকাজ হওয়ায় তাঁরা খুশি। তবে তাঁদের মূল অভিযোগ হলো, কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

একই সঙ্গে ধীরগতিতে কাজ চলায় দুর্ভোগের মেয়াদও দীর্ঘ হচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রতন মৃধা বিকল্প পথে প্রতিদিন চলাচল করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখলে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়, বিশেষ করে তাঁদের, যাঁদের সব কাজ শহরমুখী।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৈখর অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহ আলম শেখের বিলেরকানি বাড়ি পর্যন্ত ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই অংশে ৩৯০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ১ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পথে ৪৭৬ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও এএফডির (এজেন্সি ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কাজটি হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইদ টিটু দাবি করেন, সড়কটি সরু। ড্রেনের জন্য মাটি কেটে কোথাও রাখার জায়গা নেই, তাই মাটি সড়কেই রাখা হয়েছে। তবে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...