অর্থনীতিনির্ধারিত সময়ের আগেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্লক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নির্ধারিত সময়ের আগেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্লক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ১৫ দিনের সময়সীমার আগেই গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহক মনসুরুল আজিজ এই অভিযোগ করেছেন।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য দেওয়া সময় শেষ হওয়ার আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। গ্রাহক মনসুরুল আজিজ এই অভিযোগ তুলেছেন।
মনসুরুল আজিজ জানান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে তার একটি সঞ্চয়ী হিসাব, একটি ডেবিট কার্ড ও একটি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পরপরই কর্মসংস্থানের প্রমাণপত্র, বেতন স্লিপ ও আয়কর রিটার্নসহ বিভিন্ন হালনাগাদ নথি জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে।
গ্রাহকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের কেওয়াইসি বা কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত প্রয়োজনে নথি দিতে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে একই ধরনের নথি ঘন ঘন চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যান্য ব্যাংক একই ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব ও কার্ডসেবা পরিচালনা করলেও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রে কেন বারবার এসব নথি চাওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্নও তিনি রেখেছেন।
অভিযোগের মূল বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, নথি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, তা শেষ হওয়ার আগেই তার অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের একটি ই-মেইলে প্রয়োজনীয় চাকরির নথি জমা দেওয়ার জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, ১৩তম দিনে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গ্রাহক জানতে চেয়েছেন, ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়ার পর ১৩তম দিনেই অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করার কোনো বিধান রয়েছে কি না। এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নির্দেশনার আওতায় পড়ে, নাকি এটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্টতা চেয়েছেন।
গ্রাহকের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি নিজের অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। এর ফলে তার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে। এই ভোগান্তির দায়ভার কার, সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন।
ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের তথ্য হালনাগাদ, কেওয়াইসি এবং কমপ্লায়েন্স যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নথি চাওয়া হতে পারে। তবে কোনো গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তার সেবা বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক।
মনসুরুল আজিজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন রেখেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগে কোনো ব্যাংক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করতে পারে কি না। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম কী, তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মতামত (0)