ধর্ম

ঐতিহাসিক মসজিদকুঁড় মসজিদ ধ্বংসের ঝুঁকিতে

ঐতিহাসিক মসজিদকুঁড় মসজিদ ধ্বংসের ঝুঁকিতে
ঐতিহাসিক মসজিদকুঁড় মসজিদ ধ্বংসের ঝুঁকিতে
খুলনার কয়রা উপজেলার প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মসজিদকুঁড় মসজিদটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মসজিদকুঁড় গ্রামে প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মসজিদকুঁড় মসজিদটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কপোতাক্ষ নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত বাংলার সুলতানি আমলের এই নয় গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনাটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পর্যাপ্ত সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে এটি পরিচিত।

বর্গাকার এই মসজিদের বাইরের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭৬ মিটার। এর অভ্যন্তরে চারটি ইটের স্তম্ভ রয়েছে, যা মসজিদটিকে সমান নয়টি বর্গে বিভক্ত করেছে। প্রতিটি বর্গের ওপর একটি করে গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে, যা এর স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই মসজিদটি ১৫০০ শতকে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি খান জাহান আলীর সময়কালে অথবা তার অনুসারীদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই প্রাচীন স্থাপনাটি অত্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

সরেজমিনে মসজিদকুঁড় মসজিদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, এর দেওয়ালে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে এবং বহু স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এছাড়াও, মসজিদের সূক্ষ্ম কারুকাজের অনেক অংশ বিবর্ণ হয়ে গেছে, যা এর জীর্ণদশা ও ক্ষয়িষ্ণু রূপ স্পষ্ট করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান জানান, এই ঐতিহাসিক মসজিদের নাম অনুসারেই তাদের গ্রামের নাম ‘মসজিদকুঁড়’ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এই প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি দেখতে আসেন।

মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. আমিরুল ইসলাম তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিতভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা না হলে মসজিদটির অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মসজিদটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত আছেন। তারা জানিয়েছেন যে, তাদের সীমিত বাজেট থাকার কারণে মসজিদটির প্রয়োজনীয় সকল সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, ভবিষ্যতে যদি বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত করা হবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...