আন্তর্জাতিক

রাষ্ট্রপতির ভারতের প্রতি অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান

রাষ্ট্রপতির ভারতের প্রতি অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
রাষ্ট্রপতির ভারতের প্রতি অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। বঙ্গভবনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথাগুলো বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই সমাধান প্রক্রিয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো জটিলতার নিরসন সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে তিনি গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হলে উভয় দেশের কৃষিকাজ ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি অভিমত দেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতিকে জানান, তার সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। হাইকমিশনার এই বিষয়ে ভারতের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, এমন একটি সম্পর্ক দুই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু'দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ একাধিক ক্ষেত্র উল্লেখ করেন। তার মতে, এই ক্ষেত্রগুলোতে নিবিড় সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান। হাইকমিশনার ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশ একসাথে কাজ করে যাবে। হাইকমিশনার তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক আঞ্চলিক প্রগতিতে একটি মডেল স্থাপন করতে পারে। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারের সফল কর্মকাল কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার মেয়াদকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী হবে। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...