যুক্তরাষ্ট্র আজ বুধবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জবাবে তেহরান জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরান দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এছাড়াও ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপের পাশেও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল সেখানে অবস্থিত। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে এনে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।
পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, জাহাজগুলো একটি ‘বহু বিলিয়ন ডলারের ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ। ওয়াশিংটনের দাবি, এই নেটওয়ার্ক ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে ভূমিকা রাখে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালাবে কিংবা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই ইরান তেলবাহী ট্যাংকার হারাবে।
মার্কিন হামলার পর জর্দানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
জর্দানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সেন্টকমের দাবি, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজ। তবে মার্কিন বাহিনী হামলাটি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি বলেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে।



মতামত (0)